দুবাই শহর থেকে ইজরায়েলগামী বিমানে পাইলটদের মধ্যে অতর্কিত হামলা, বর্তমানে চর্চার শিখরে। কারণ নেপথ্যে জুড়েছে ভারতের নাম। জানা গিয়েছে, বুধবার বিমানের ককপিটে যে পাইলটের উপর ছুরি দিয়ে হামলা করা হয়েছিল, তিনি ছিলেন একজন ভারতীয় নাগরিক। নাম স্মিত মচ্ছর। ২০২২ সাল থেকে তিনি দুবাইয়ের বিমান সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। এমতাবস্থায় ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
বুধবার সকালে ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ বিমানটি চালাচ্ছিলেন স্মিত। অভিযোগ, মাঝ-আকাশে ককপিটের মধ্যেই তাঁর উপর হামলা হয়। স্মিতকে কোপানো হয় ছুরি দিয়ে। তাঁর সহকারী পাইলট এই আক্রমণ করেছেন বলে অভিযোগ। বিমানে উপস্থিত যাত্রী এবং অন্য বিমানকর্মীরা হামলাকারীকে বাধা দেন এবং ক্যাপ্টেনকে উদ্ধার করেন। পরে ১৮০ জন যাত্রী-সহ বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। স্মিত আপাতত সৌদির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজের এক্স মাধ্যমে লিখেছেন, ‘ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর একজন বীর। চরম বিপদ ও গুরুতর আঘাত সত্ত্বেও, তিনি অন্যদের জীবন রক্ষায় অসীম সাহস ও অবিচল সংকল্পের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর বীরত্ব শত শত মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং এক বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে সহায়তা করেছে। ভারত ক্যাপ্টেন মাচ্ছরকে নিয়ে গর্বিত। তাঁর দ্রুত আরোগ্য, নতুন উদ্যম ও সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা করছি।’ একইভাবে স্মিতের সাহসিকার তারিফ করেছেন জয়শঙ্কর। লিখেছেন, ‘চরম বিপদের মুখেও ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের অসাধারণ সাহস ও উপস্থিত বুদ্ধি গতকাল শত শত মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে এবং এক বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছে।’
অন্যদিকে চরম বিপর্যয়ের মুখ থেকে দেশের নাগরিকদের বাঁচানোয় স্মিতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ইজরায়েলি প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহু। লিখেছেন, ‘অসাধারণ সাহসিকতার জন্য ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে আমি স্যালুট জানাই। ছুরিকাঘাতে গুরুতরভাবে আহত হওয়া সত্ত্বেও তিনি পাল্টা লড়াই ও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং ককপিটের দরজা খুলে দেন; এর ফলে যাত্রী ও ক্রু-সদস্যরা আক্রমণকারীকে কাবু করতে সক্ষম হন এবং আকাশে এক ভয়াবহ বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়। তিনি ইসরায়েলি নাগরিক-সহ মোট ১৭৪ জনের জীবন রক্ষা করেছেন।আমি ক্যাপ্টেন মচ্ছরের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য কামনা করি। তিনি একজন প্রকৃত বীর।’
অন্যদিকে ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসবাদী হানা’ বলে দাবি করেছে ইজরায়েল। জানা গিয়েছে, আক্রমণকারী সহকারী পাইলট ওমানের নাগরিক। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজের দাবি, ইজরায়েলি যাত্রীদের খুন করার উদ্দেশ্যেই ওই বিমান ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছিল। ‘জিহাদিদের সন্ত্রাসবাদী হামলার চেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি এই ঘটনাকে। ঘটনায় ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দাবি, বিমানটিকে ‘ক্র্যাশ’ করাতে চেয়েছিলেন অভিযুক্ত। যাত্রীদের সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন তিনি।