মাঝ আকাশে ভয়ঙ্কর নাটক। বিমানের ককপিটের ভিতরেই দুই পাইলটের হাতাহাতি। ছুরির আঘাতে গুরুরত জখম হলেন এক পাইলট। রক্তে ভেসে গেল ককপিট! ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় এই ঘটনায় ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়াল যাত্রীদের মধ্যে। কার্যত তাজ্জব হলেন ১৮০ যাত্রী।
ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে ফ্লাই দুবাইয়ের FZ 1073 বিমানে। বিমানটি দুবাই থেকে উড়েছিল। ওড়ার কিছু পরেই ককপিট থেকে চিৎকারের আওয়াজ পান যাত্রীরা। এক যাত্রী ককপিটের দরজা খুলতেই দেখেন, এক পাইলট মেঝেতে পড়ে রয়েছেন, চারদিকে রক্ত। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, দুই পাইলটই ওমানের নাগরিক। দু’জনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনের দাবি, বিমানে থাকা কয়েকজন অফ-ডিউটি পাইলট পরিস্থিতি ওই সময় পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন। তাঁরাই বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করান। ইজরায়েলের এক শীর্ষ আধিকারিকের দাবি, ওই পাইলটরা হাল না ধরলে ৯/১১-র মতো বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, তাবুকে নিরাপদে নামার পর যাত্রীরা হাততালি দিয়ে, গান গেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।
রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, মারামারির সময় অভিযুক্ত পাইলট ইচ্ছে করে বিমানটিকে ক্র্যাশ করানোর চেষ্টা করেন। অন্য পাইলট বাধা দেন। এই ধস্তাধস্তির মধ্যেই বিমানটি হু হু করে নিচে নামতে শুরু করে। মাত্র ২ মিনিটের মধ্যে ৩৪ হাজার ফুট থেকে ১৭ হাজার ফুটে নেমে আসে। এমনকি অভিযুক্ত পাইলট আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
এই সময়েই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাছে পরপর দুটি ইমার্জেন্সি কোড যায়। প্রথমে Squawk 7700 এবং তার পরেই 7500, যার অর্থ বিমান হাইজ্যাক। এর জেরে প্রথমে মনে করা হয়েছিল বিমানটি অপহরণ করা হয়েছে। পরে ইজরায়েলের তরফে সেই জল্পনা উড়িয়ে দেওয়া হয়। এক প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ইজরায়েলি মিডিয়া জানিয়েছে, এক পাইলট হঠাৎই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন এবং বিমান ক্র্যাশ করানো ও আত্মহত্যার হুমকি দিতে থাকেন।