প্রদীপ মাইতি, রামনগর : ফের প্রকাশ্যে এসে পড়ল তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল। একই দিনে তৃণমূলের যুযুধান দুই গোষ্ঠীর মোটরবাইক র্যাiলিকে কেন্দ্র করে এই ছবি ফুটে উঠল রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী’র গড়, পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে। রামনগর ১ ব্লক যুব তৃণমূল সভাপতি কৌশিক বারিকের নেতৃত্বে প্রথমে রামনগরের চৌদ্দমাইল থেকে দিঘা পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার ঐতিহাসিক মোটরবাইক র্যাপলির আয়োজন করা হয়। তারপর ওল্ড দিঘায় পথ সভা আয়োজিত হয়। সেখানে ছিলেন সভার সভাপতি তথা দাপুটে তৃণমূল নেতা সুশান্ত পাত্র, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ তমাল তরু দাস মহাপাত্র, জেলা এসসি ও ওবিসি সেলের সভাপতি মাণিক ঘোড়াই, জেলা পরিষদের সদস্য রিজিয়া বিবি ও রামনগর ১ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য দীপক সার প্রমুখ।

অপরদিকে, রামনগরের তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরি এবং কাঁথি পুরসভার পুরপ্রধান সুপ্রকাশ গিরি’র নেতৃত্বে রামনগর ২ ব্লক তৃণমূল ও যুব তৃণমূলের উদ্যোগে রামনগর রেলক্রসিং থেকে দেপাল হয়ে মৈতনা পর্যন্ত একটি মোটরবাইক র্যা লির আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি, মৈতনাতে পথসভাও করেন স্থানীয় এলাকার বিধায়ক অখিল গিরি। তবে তৃণমূলের উভয়গোষ্ঠীর নেতারা দাবি করেছেন, এটা তাঁদের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি। কিন্তু এদিন গোষ্ঠীকোন্দলের আঁচ ভেবেই দিঘার সভায় কার্যত ব্রাত্য থাকলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক ও কাঁথি সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি পিজুস কান্তি পণ্ডা।

এ প্রসঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক গোষ্ঠীর নেতৃত্বরা দাবি করেন, আগামী ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রামনগরে বহিরাগত নয়, রামনগরের ভূমিপুত্রকে চায় তাঁরা। নাম না করেই তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক গোষ্ঠীর তৃণমূল নেতৃত্বরা। কিন্তু এ প্রসঙ্গে রামনগরের তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরির ছেলে তথা কাঁথি পুরসভার পুরপ্রধান সুপ্রকাশ গিরি বলেন, “মানুষ জানে কে তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে রামনগরে আছে। আর যারা সেখানে মিছিল (দিঘায়) আছে তারা তৃণমূলের ইতিহাস সম্পর্কে জানে না”।
তৃণমূলকে কটাক্ষ করতে একেবারেই দেরি করেনি গেরুয়া শিবির। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য তপন মাইতি জানিয়েছেন, “রামনগর বিধানসভায় তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল চরমে। এই গোষ্ঠী কোন্দল মূলত দিঘায় অসাধু আয় নিয়ে। যে জগন্নাথ মন্দির হয়েছে, সেখানেও লোক নিয়োগ নিয়ে যে অসাধু আয়, তার ভাগাভাগি নিয়েই মূলত গোষ্ঠী কোন্দল শুরু হয়েছে। আর এই গোষ্ঠী কোন্দল রাস্তায় নেমে পড়েছে, তার উদাহরণ দুটি পৃথক র্যাোলি। তাতে আমরাও খুশি রামনগর বিধানসভার মানুষও খুশি, রামনগর বিধানসভার মানুষ ২০২৪-এ দশ হাজার ভোটে ভারতীয় জনতা পার্টি কে লিড দিয়েছে। আমি আশাবাদী রামনগরবাসী ২০২৬ সালে পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি ভোটে ভারতীয় জনতা পার্টিকে জয়লাভ করাবে। শুধু রামনগরের মানুষ নয়, গোটা পশ্চিমবাংলার মানুষ এটা দেখিয়ে দেবে”।
