ওঙ্কার ডেস্ক: কেরলের রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল ইডির অভিযানে। বুধবার সকালে কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের বাড়িতে পৌঁছয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা। দুর্নীতি ও অর্থপাচার সংক্রান্ত মামলার তদন্তে এই তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে কেরলের আরও একাধিক জায়গায় অভিযান চালানো হয়। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে ‘কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড’ বা সিএমআরএল-সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেন। অভিযোগ, পিনারাই বিজয়নের কন্যা বীণা বিজয়নের সংস্থা ‘এক্সালজিক সলিউশনস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর কাছে বিপুল অঙ্কের টাকা পাঠানো হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, কোনও পরিষেবা প্রদান না করেই ওই অর্থ নেওয়া হয়। ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে প্রায় ১.৭২ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার সূত্রপাত কয়েক বছর আগে। কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের নজরে আসার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নামে সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিস বা এসএফআইও। তদন্তের পর তাদের রিপোর্টে বীণা বিজয়ন-সহ মোট ২৭ জনের নাম উঠে আসে। অভিযোগ করা হয়, কোম্পানি আইনের একাধিক ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে। এরপরই অর্থপাচারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে তদন্তে নামে ইডি। যদিও এই মামলায় সরাসরি অভিযুক্ত নন পিনারাই বিজয়ন, তবুও তাঁর বাড়িতে ইডির তল্লাশি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলি ইতিমধ্যেই বাম সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠছিল। এই অভিযান সেই অভিযোগকেই আরও জোরদার করল।
অন্যদিকে সিপিএমের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের দাবি, বিরোধী নেতাদের চাপে রাখতেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বাম শিবিরের বক্তব্য, তদন্তকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।