ওঙ্কার ডেস্ক: লাউডন স্ট্রিট এবং সল্টলেকের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকরা একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করে দিল্লিতে সংস্থার সদর দফতরে পাঠিয়েছেন। কলকাতায় তল্লাশি অভিযানের সময় কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, কোন কোন স্তরে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং কোন ঘটনার পর কী প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, এই সবই ওই রিপোর্টে ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আই-প্যাকের দফতর এবং লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তা নিয়েই মূলত এই রিপোর্ট। ইডি সূত্রের দাবি, তল্লাশি চলাকালীন আচমকাই ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায় এবং পরিস্থিতি ক্রমশ অশান্ত হয়ে ওঠে। কোথাও কোথাও কর্তব্যরত আধিকারিকদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠে আসে। রিপোর্টে সেই সমস্ত ঘটনার সময়কাল, উপস্থিত আধিকারিকদের বক্তব্য এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।
লাউডন স্ট্রিটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি এবং তাঁর ভূমিকা নিয়েও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে বলে ইডি সূত্রে খবর। তল্লাশি অভিযানের সময় কিছু নথি ও সামগ্রী বাইরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কোন পরিস্থিতিতে সেই ঘটনা ঘটে এবং তাতে তদন্ত প্রক্রিয়ায় কী প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়েও রিপোর্টে ব্যাখ্যা রয়েছে।
এই রিপোর্ট দিল্লিতে পাঠানো হলেও, তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছেও পাঠানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। অন্যদিকে, একই ঘটনায় কলকাতা পুলিশ আলাদা ভাবে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার পর বিভিন্ন জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
লাউডন স্ট্রিট ও সল্টলেকের এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে টানাপোড়েনের ছবি আবারও সামনে এসেছে। ইডির পাঠানো এই রিপোর্টকে ঘিরে আগামী দিনে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সে দিকেই এখন নজর।
