স্পোর্টস ডেস্ক : ইডেনে প্রথম টেস্টেই বড়সড় ধাক্কা খেল টিম ইন্ডিয়া। হঠাৎই ঘাড় ও স্পাইনালকডের যন্ত্রণায় কাহিল হলেন অধিনায়ক শুভমন গিল। মাঠ থেকে স্ট্রেচারে করে সোজা হাসপাতালে। আপাতত তাঁর ঠাঁই উডল্যান্ডস হাসপাতাল। ফলে ধরেই নেওয়া হচ্ছে প্রথম টেস্টের বাকি দিনগুলোতে খেলতে পারছেন না অধিনায়ক।
এদিন সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাঁকে। বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার ঘুম থেকে ওঠার পরেই শুভমন ঘাড়ে ব্যথা শুরু হয়। সাময়িক উপশমের জন্য ওষুধ দেওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। যদিও ব্যাট হাতে মাঠে নামেন গিল। কিন্তু খেলা চলাকালীন সাইমন হারমারকে সুইপ করতে গিয়েই আবার ব্যথা শুরু হয়। মাঠে আসেন ফিজিও। সমস্যা এমন অবস্থায় তখন যে তিনি ঘাড় ঘোরাতেই পারছিলেন না। অগত্যা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এমআরআইতে সমস্যা ধরা পড়ে। ঘাড় শক্ত হয়ে গেছে। বছরখানেক আগে এমনই একটা চোট পেয়েছিলেন তিনি। পুরোনো সমস্যা এবারেও জেগে উঠলো। দুটো সমস্যা পরীক্ষা করে দেখেছেন চিকিৎসক। চিকিৎসকের অভিমত, বয়স বেশি নয় বলে শুভমনের সহ্যশক্তি বেশি।
ডাক্তারি ভাষায় ঘাড়ের এই সমস্যাকে বলে ‘পেন থ্রেসহোল্ড’। সহ্যশক্তি বেশি হলেও এবার তার যন্ত্রণায় শুভমন যে যথেষ্ট কাহিল তা বেশ বোঝা যাচ্ছে। তাই চিকিৎসকরাও তাঁকে টিমের সঙ্গে রাখতে চাননি। আপাতত হাসপাতালেই রাতটা অন্তত থাকতে হল শুভমনকে।
এদিকে শুভমনের শারীরিক সমস্যা নিয়ে বেশ শোরগোল দেখা যায়। অসহ্য যন্ত্রণা সত্ত্বেও সময়মতো চিকিৎসক মেলেনি ইডেনে। বোর্ডের চিকিৎসক চার্লস মিনজ়ও প্রথমে ততটা গুরুত্ব দেননি এমন খবর কানাকানি হতেই প্যাভিলিয়নে খানিক ক্ষোভ দেখা যায়। পরে বোঝা যায় বিষয়টিতে গুরুত্ব না দিয়ে ঠিক করেননি ফিজিও। এই অবস্থায় ইডেন টেস্টের বাকিদিনগুলি ও পরের গুয়াহাটি টেস্টও অনিশ্চিত মনে করা হচ্ছে। এই অবস্থায় শুভমান খেলতে না পারলে পরবর্তি পদক্ষেপ কী হতে পারে তাই নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে ভারতীয় দলে। ম্যাচের শেষে বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল অবশ্য জানিয়েছেন, জানান, “শুভমান খুব ফিট এবং নিজের শরীরের যত্ন নেয়। শারীরিক অতিরিক্ত ধকলের সমস্যা নয়, হয়তো ঘুমের সময় কোনোভাবে ঘাড় শক্ত হয়ে গেছে।”
