ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া যাচাই করতে নির্বাচন কমিশনের চার সদস্যের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল রাজ্যে পৌঁছেছে। বিশেষ তৎপরতা নিয়ে চালানো হচ্ছে এই স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়া, এবং তার অগ্রগতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে কমিশনের উপ-নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতীর নেতৃত্বে দলটি কলকাতায় পরিদর্শন শুরু করেছে। তাদের সফর চলবে ১৮ থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ে কমিশনের প্রতিনিধিরা কলকাতা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং উত্তর ২৪ পরগণা জেলায় মাঠপর্যায়ের কাজ পর্যালোচনা করবেন।
দলের সঙ্গে রয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব এস বি জোশি, প্রধান সচিব মালয় মল্লিক এবং কম সচিব অভিনব আগরওয়াল। তারা বিভিন্ন স্তরের প্রশাসনিক আধিকারিক, জেলা নির্বাচন আধিকারিক, বিএলও, এইআরও এবং ইআরও–দের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এসআইআর প্রক্রিয়ার গতি, তথ্য সংগ্রহের নির্ভুলতা, সংশোধন আবেদনের নিষ্পত্তি এবং বাড়ি বাড়ি যাচাইয়ের কাজ কতটা স্বচ্ছ ভাবে এগোচ্ছে এই সমস্ত দিক তারা খুঁটিয়ে দেখছেন।
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছে। বিএলও কর্মীদের পাশাপাশি এডিএম এবং ইআরও–দের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে যাতে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় কোনও ত্রুটি না থাকে। কমিশন মনে করছে, ভবিষ্যতে বিধানসভা নির্বাচনকে স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ এবং নির্ভুল করতে হলে ভোটার তালিকাই হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তাই তালিকা থেকে ভুল বা অনিয়ম দূর করতে বিশেষ তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।
পূর্ব মেদিনীপুর এবং উত্তর ২৪ পরগণা এই দুই জেলার ওপর আলাদা করে নজর রাখছে কমিশন। অভিযোগ রয়েছে, গত কয়েক বছরে এই জেলাগুলিতে নতুন ভোটার সংযোজন, ঠিকানাবদল এবং মৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া সংক্রান্ত নানা অসঙ্গতি দেখা গেছে। ফলে এখানকার মাঠপর্যায়ের কাজ আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে প্রতিনিধিদল। তারা বুথে গিয়ে বিএলও–দের সঙ্গে কথা বলছে, রেজিস্ট্রেশন রেকর্ড খতিয়ে দেখছে এবং ত্রুটিপূর্ণ আবেদনগুলির নিষ্পত্তির গতিও পর্যালোচনা করছে।
তবে পুরো প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনও তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের তরফে অভিযোগ ওঠে, নির্বাচন কমিশন অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করছে এবং রাজ্য প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে বিরোধীরা দাবি করছে, বহুদিন ধরেই রাজ্যের ভোটার তালিকায় ভুয়ো নাম অন্তর্ভুক্তি ও পক্ষপাতদুষ্ট সংশোধনের অভিযোগ রয়েছে তাই কমিশনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
নির্বাচন কমিশন এ ধরনের রাজনৈতিক অভিযোগকে গুরুত্ব না দিয়ে জানিয়েছে, তাদের একমাত্র লক্ষ্য, একটি নির্ভরযোগ্য ও পরিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরি করা। কমিশনের এক আধিকারিক বলেন, ভোট গণতন্ত্রের ভিত্তি, তাই প্রতিটি যোগ্য ভোটারের নাম তালিকায় থাকা এবং অযোগ্য বা ভুয়ো নাম বাদ পড়া অত্যন্ত জরুরি।
কমিশনের প্রতিনিধিদল রাজ্যে থাকার সময় আরও একাধিক বৈঠক হবে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে। পরিদর্শন শেষে তারা একটি বিশদ রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে জমা দেবেন, যেখানে রাজ্যের প্রস্তুতি, ত্রুটিগুলি এবং সংশোধনের পরামর্শ উল্লেখ থাকবে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই আগামী দিনে এসআইআর প্রক্রিয়া আরও কঠোরভাবে করা হবে বলে কমিশনের সূত্রে জানা গেছে।
