ওঙ্কার ডেস্ক: বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার বিশেষ সার্বিক পরিমার্জন স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশনের জন্য নির্বাচন কমিশনের নতুন বিজ্ঞপ্তি ও নির্দেশিকা নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার এই ইস্যুতে সরাসরি দিল্লির নির্বাচন সদনে গিয়েছিলেন দলের হেভিওয়েট প্রতিনিধিদের এক দল। দলের লোকসভার মুখ্য সচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশ চির বরাইক এবং রাজ্যের তিন মন্ত্রী— ফিরহাদ ববি হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও অরূপ বিশ্বাস কমিশনের সঙ্গে দেখা করে তৃণমূলের আপত্তি তুলে ধরেছেন।
কমিশনের সদর দফতর থেকে বেরিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘কমিশন বলেছিল, ভোটার তালিকা থেকে কেউ যেন বাদ না পড়েন, সেটাই উদ্দেশ্য। কিন্তু যেভাবে নতুন নির্দেশিকা এসেছে, তাতে মনে হচ্ছে প্রথমে ভোটারের যোগ্যতা যাচাই করা হবে, তারপর তালিকায় রাখা হবে।’’ তৃণমূলের স্পষ্ট দাবি, ২০২৪ সালের ভোটার তালিকাই এসআইআর-এর ভিত্তি হতে হবে। কল্যাণ জানান, ‘‘আমাদের দাবি, ২০২৪ পর্যন্ত যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁদের নাম কোনও অবস্থাতেই বাদ যাবে না।’’
ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‘দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই আমরা কমিশনের কাছে জানিয়েছি ২০০৩ সালের পরে জন্মগ্রহনকারি দের জন্ম সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুরনো ভোটারদের নতুন নথি চাওয়া যাবে না।’’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, মনোনয়নের ৪৫ দিন আগে তালিকায় নাম তোলার সুযোগ থাকলে জাল ভোটার ঢোকানো হতে পারে। এছাড়া বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রভাব খাটানোর আশঙ্কা তুলে ফিরহাদ প্রস্তাব দেন, বুথের ভেতরে রাজ্য পুলিশেরও থাকা উচিত, এবং ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ভেতরে কোনও বাহিনী ঢুকতে পারবে না।
ঐদিন বৈঠকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার চম্পাহাটিতে ৪৫০০ ভুয়ো ভোটার তালিকাভুক্ত হওয়ার কথাও তুলেছে তৃণমূল। তাদের দাবি, আধার ও ভোটার কার্ডের লিঙ্ক বাধ্যতামূলক করা যাবে না এবং ভোটের বিজ্ঞপ্তি বেরোনোর পরে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের যাতায়াতও কমিশন যেন নিয়ন্ত্রণ করে এই সবই লিখিতভাবে জানিয়েছে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। কমিশনের তরফে এ নিয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে ভোটের আগে এই নির্দেশিকাকে ঘিরে রাজ্য-রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
