“প্রধানমন্ত্রী আম্বানি”
ভারতে স্টারলিংক পরিষেবা চালুতে বিলম্বের কারণে হতাশ ইলন মাস্ক। আর এর জন্য তিনি দায়ী করেছেন শিল্পপতি মুকেশ আম্বানিকে। সেকারণে মুকেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করেছেন ইলন মাস্ক। আক্রমণের মাত্রা এমন জায়গায় পৌঁচেছে যে মুকেশ আম্বানিকে তিনি “প্রধানমন্ত্রী আম্বানি” বলে সম্বোধন করেছেন। এই ক্ষোভের কারণ, ইলন মনে করছেন, নিজের টেলিকম সাম্রাজ্য রক্ষার স্বার্থেই তিনি স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবাকে ভারতে ঢুকতে দিচ্ছেন না মুকেশ। অবশ্য ক্ষমাও চেয়েছেন, তবে বিদ্রুপের সুরে। বলেছেন, “প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আপনিই যে ভারতের আসল বস—তা বুঝতে না পারার জন্য অনুগ্রহ করে আমার বিনীত ক্ষমা প্রার্থনা গ্রহণ করুন।” তা যে প্রকৃতই বিদ্রুপ সেটা বোঝা যাচ্ছে ইলনের পরের কথায়। তিনি বলেছেন, “বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়—যখন অন্য সব যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে—তখন জীবন রক্ষায় স্টারলিংকই যে অপরিহার্য তা প্রমাণিত। সুতরাং, স্টারলিংককে সুযোগ দিলে আপনিও ভারতের নারী, পুরুষ ও শিশুদের জীবন রক্ষায় সহায়তা করবেন।” কিন্তু বিষয়টি বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব হলেও, এর মধ্যে আন্তর্জাতিক রাজনীতির গন্ধ পাচ্ছে ওয়াকিবহাল মহল। আর তখনই ইলন ও মুকেশকে ছাড়িয়ে যে দুটি মুখ ভেসে উঠছে তা হল- নরেন্দ্র মোদী ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারত সম্পর্কে আমেরিকার সাম্প্রতিক একরোখা মনোভাব এবং রাশিয়া ইস্যুতে পুনরায় শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দু দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ফাটল ধরিয়েছে। তা কি মার্কিন বেসাতির প্রসার রুখে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে চাইছে দিল্লি ? তবে এর মধ্যে যে ইতিমধ্যে রাজনীতি ঢুকে পড়েছে তা রাহুল গান্ধীর টিপ্পনি থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না। সরাসরি আদানির নাম না করে রাহুল এক্স-এর একটি পোস্টে লিখেছেন, “অপেক্ষা করুন, দেখুন ‘অন্য লোকটিকে’ আপনি কখন আবিষ্কার করেন।” এর জবাবে মাস্ক বলেছেন, “ধন্যবাদ, রাহুল। বিষয়টি সত্যিই উদ্বেগজনক।”