ওঙ্কার ডেস্ক : এভারেস্টে সর্বাধিক আরোহণের রেকর্ডধারী কামি রিতা শেরপা ডিঙিয়ে গেলেন নিজেরই রেকর্ড। রবিবার বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ আরোহণের ৩২ তম জয়ের মুকূট উঠলো তাঁর মাথায়। নেপালের পর্যটন দপ্তর রবিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ৫৫ বছর বয়সী এই প্রবীণ নেপালি পর্বতারোহী ২০২৬ সালের বসন্তকালীন পর্বতারোহণ মৌসুমে নেপালের সময় সকাল ১০:১২ মিনিটে ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার উঁচু শৃঙ্গে সফলভাবে পৌঁছান। তারা আরও জানিয়েছে, “এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের ফিল্ড অফিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘১৪ পিকস এক্সপেডিশন’ আয়োজিত একটি অভিযানের নেতৃত্ব দিয়ে এই আরোহণ শেষ করা হয়।”
তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন পাসং দাওয়া শেরপা, যিনি ২৯ বার বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের চূড়ায় পৌঁছেছেন। এই দুজন এভারেস্টে সর্বাধিকবার আরোহণের রেকর্ড গড়ার জন্য বারবার কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।
অভিযান আয়োজক সংস্থা ১৪ পিকস এক্সপেডিশনও একটি ফেসবুক পোস্টে কামি রিতার মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণের বিষয়টি জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, “কিংবদন্তী কামি রিতা শেরপাকে অভিনন্দন, যিনি আজ ১৭ মে, ২০২৬ তারিখে সকাল ১০:১২ মিনিটে মাউন্ট এভারেস্টে তাঁর অবিশ্বাস্য ৩২তম সফল আরোহণ সম্পন্ন করেছেন।”
কোম্পানিটিও তার এই কৃতিত্বের জন্য প্রশংসা করেছে। এতে বলা হয়েছে, “৫৫ বছর বয়সে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন যে, দৃঢ়সংকল্প, অভিজ্ঞতা এবং সহনশীলতার মাধ্যমে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গেও সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। আপনার এই কৃতিত্ব শুধু আপনার ব্যক্তিগত মাইলফলকই নয়, বরং নেপাল এবং বিশ্বব্যাপী পর্বতারোহণ সম্প্রদায়ের জন্যও একটি গর্বের মুহূর্ত। হিমালয়ের চেতনাকে বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।”
বিশ্বজুড়ে ‘এভারেস্ট ম্যান’ হিসেবে পরিচিত কামি রিতা মানুষের সহনশীলতা, সাহস এবং নিষ্ঠার নতুন সংজ্ঞা দিয়ে চলেছেন। ১৯৯৪ সালে প্রথমবার শৃঙ্গে আরোহণের পর থেকে তিনি পাহাড়ের প্রতি তার অতুলনীয় ভালোবাসা এবং হিমালয় পর্বতারোহণে তার অসাধারণ অবদানের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছেন।
১৯৭০ সালের ১৭ জানুয়ারি নেপালের সোলুখুম্বু জেলার থামেতে কামি রিতার জন্ম। বহু বছর ধরে এভারেস্টে একজন উচ্চ-উচ্চতার পর্বত গাইড হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বর্তমানে পর্যটন বিভাগ থেকে জারি করা ৭০ নম্বর ক্লাইম্বিং পারমিটের অধীনে মাউন্ট এভারেস্টে একজন পর্বত গাইড হিসেবে নিযুক্ত আছেন। ১৯৯৪ সালে প্রথম মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেন তিনি। তারপর থেকে বিশ্ব পর্বতারোহণের অন্যতম প্রশংসিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

একজন প্রখ্যাত পর্বতারোহী হওয়ার পাশাপাশি, কামি রিতা পরিবেশগত স্থিতিশীলতার একজন প্রবক্তাও। মাউন্ট এভারেস্ট ও হিমালয় অঞ্চলকে রক্ষা করার জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। হিমালয় পর্বতমালার উপর জলবায়ু পরিবর্তনের উদ্বেগজনক প্রভাব উপলব্ধি করে, কামি রিতা গলে যাওয়া হিমবাহ এবং স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র ও সম্প্রদায়ের উপর এর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
একইভাবে, ‘মাউন্টেন কুইন’ নামে জনপ্রিয় লাকপা শেরপা সোমবার সকাল ৯:৩০ মিনিটে ১১তম বারের মতো মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণ করে একজন নারী পর্বতারোহী হিসেবে সর্বোচ্চ সংখ্যকবার আরোহণের বিশ্ব রেকর্ড স্থাপন করেছেন। নেপালের শঙ্খুয়াসভা জেলার মাকালু-২ গ্রামে ১৯৭৩ সালে জন্ম লাকপা শেরপার। নেপালের পর্বতারোহণের ইতিহাসে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত করেছেন তিনি।