ওঙ্কার বাংলা: রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও রোগীবান্ধব করে তুলতে শনিবার গভীর রাতে কলকাতার পাঁচটি প্রধান সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে নামলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম। মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য প্রশাসনিক বৈঠকের পর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এই অভিযান স্বাস্থ্যদপ্তরের কড়া মনোভাব ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে।
রাত প্রায় বারোটার সময় আচমকাই আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছে যান স্বাস্থ্যসচিব। তাঁর এই আকস্মিক উপস্থিতিতে হাসপাতাল প্রশাসনের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। অধ্যক্ষ, সুপার ও অন্যান্য কর্তাদের নিয়ে তিনি হাসপাতালের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ, ট্রমা কেয়ার ইউনিট, মেডিসিন ও সার্জারি ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। রোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে চিকিৎসা পরিষেবার গুণমান, বেডের প্রাপ্যতা, ওয়ার্ডের পরিবেশ, বাথরুমের অবস্থা, পানীয় জলের সুবিধা এবং পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেন। বহু রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরলে স্বাস্থ্যসচিব তাৎক্ষণিকভাবে পরিষেবা উন্নত করার নির্দেশ দেন।
শুধু আর জি কর নয়, একই রাতে তিনি নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, এসএসকেএম হাসপাতাল এবং ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজেও পরিদর্শন করেন। প্রতিটি হাসপাতালেই জরুরি পরিষেবা, রোগী ভর্তির পরিস্থিতি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বেড ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা পরিকাঠামোর খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখা হয়। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে বেড না পেয়ে অপেক্ষারত রোগীদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত শয্যার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন তিনি। হাসপাতালগুলিতে কোথাও যেন রোগী পরিষেবায় অবহেলা না থাকে, সেই বিষয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
এই অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে স্বাস্থ্যসচিব ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লাইভ বেড মনিটরিং সিস্টেম চালুর নির্দেশ দেন। এর ফলে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে কত বেড খালি রয়েছে, তা রিয়েল-টাইমে জানা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করে অন্যান্য সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রকেও এর আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে হাসপাতালগুলিতে পানীয় জলের গুণমান নিয়মিত পরীক্ষা, বাথরুম ও ওয়ার্ডে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, অতিরিক্ত সাফাইকর্মী নিয়োগ এবং দালালচক্র রুখতে প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, সরকারি হাসপাতালগুলিকে শুধু চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রেই নয়, সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় আরও জবাবদিহিমূলক ও জনমুখী করে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। মধ্যরাতের এই আকস্মিক অভিযান রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের অংশ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি হাসপাতালগুলিতে উন্নত পরিষেবা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকারের এই সরাসরি তৎপরতা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।