ওঙ্কার ডেস্ক: ফলহারিণী অমাবস্যা উপলক্ষে দুর্গাপুরের ইস্পাত নগরীতে কালীপুজোর আবহে রাজনৈতিক বার্তায় সরব হলেন দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে স্পষ্ট এবং কড়া সতর্কবার্তা দেন। বিধায়ক জানিয়ে দেন, বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে মানেই কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সাধারণ মানুষের উপর অন্যায়, অত্যাচার বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে দলেরই হোন না কেন, তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে বলেন, এলাকার কোনও বিজেপি নেতা বা কর্মী যদি বেআইনি কার্যকলাপে যুক্ত থাকেন বা মানুষের সমস্যা বাড়ান, তাহলে সাধারণ মানুষ সরাসরি তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারেন। অভিযোগ পাওয়ার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে পদক্ষেপ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। প্রয়োজনে পুলিশি ব্যবস্থা এবং গ্রেপ্তারিও নিশ্চিত করা হবে বলে তাঁর হুঁশিয়ারি রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিধায়ক আরও স্পষ্ট করেন, মানুষের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের আস্থা রক্ষা করা তাঁর প্রথম দায়িত্ব। কোনওভাবেই দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে বা ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ পার পাবে না। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলের প্রতিটি কর্মীকেই সংযত, দায়িত্বশীল এবং জনমুখী আচরণ করতে হবে। একইসঙ্গে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসকেও তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। অতীতে সাধারণ মানুষের উপর যাঁরা সন্ত্রাস ও অত্যাচার চালিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে এখন আইন নিজের পথে এগোচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বিজেপি নিজেদের প্রশাসনিক কঠোরতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বার্তা তুলে ধরতে চাইছে।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়কের এই বক্তব্য শুধুমাত্র দলীয় কর্মীদের সতর্কবার্তা নয়, বরং সাধারণ মানুষের কাছে বিজেপির প্রশাসনিক অবস্থান স্পষ্ট করার কৌশলও বটে। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আবহে এমন রাজনৈতিক বার্তা রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।