চোখের সৌন্দর্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে আইলাইনারের ব্যবহার বহুদিনের জনপ্রিয় একটি প্রসাধনী অভ্যাস। চোখের আকৃতি স্পষ্ট করা, চোখকে বড় ও টানা দেখানো কিংবা সাজে আলাদা মাত্রা যোগ করার জন্য অনেকেই প্রতিদিন আইলাইনার ব্যবহার করেন। তবে সৌন্দর্যের পাশাপাশি চোখের মতো সংবেদনশীল অঙ্গের নিরাপত্তার দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি।
সঠিকভাবে এবং নিরাপদ প্রসাধনী ব্যবহার করলে সাধারণত আইলাইনার থেকে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু নিম্নমানের, মেয়াদোত্তীর্ণ বা দূষিত আইলাইনার ব্যবহার করলে চোখে জ্বালা, চুলকানি, লালভাব, জল পড়া কিংবা অ্যালার্জির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের চোখ সংবেদনশীল বা অ্যালার্জির প্রবণতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।
আইলাইনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোথায় লাগানো হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। চোখের ভেতরের জলরেখা বা একেবারে চোখের পাতার প্রান্তে লাগালে প্রসাধনীর কণা চোখের অশ্রুগ্রন্থি ও তেলগ্রন্থির স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দিতে পারে। এর ফলে চোখ শুষ্ক লাগা, অস্বস্তি বা জ্বালাপোড়া হতে পারে। আইলাইনারের কণা চোখের ভেতরে ঢুকে গেলে সাময়িকভাবে চোখে খচখচ বা জল পড়ার সমস্যাও হতে পারে।
নিরাপদ থাকতে সবসময় বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের মানসম্মত প্রসাধনী ব্যবহার করা উচিত। আইলাইনারের মেয়াদ ও ব্যবহারের নির্দেশনা দেখে নেওয়া দরকার। অন্য কারও সঙ্গে একই আইলাইনার, ব্রাশ বা অ্যাপ্লিকেটর ভাগ করে ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এতে জীবাণু ছড়িয়ে চোখে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। একইভাবে, চোখে সংক্রমণ বা অতিরিক্ত জ্বালা থাকলে আইলাইনার ব্যবহার না করাই ভালো।
দিনের শেষে চোখের মেকআপ ভালোভাবে তুলে ঘুমানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেকআপ তোলার সময় চোখে অতিরিক্ত ঘষাঘষি না করে কোমলভাবে পরিষ্কার করতে হবে। আইলাইনার ব্যবহারের পর চোখে তীব্র ব্যথা, ফুলে যাওয়া, অতিরিক্ত লালভাব, পুঁজ, দৃষ্টিতে পরিবর্তন বা দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি দেখা দিলে প্রসাধনী ব্যবহার বন্ধ করে প্রয়োজনে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অর্থাৎ, আইলাইনার নিজে থেকেই ক্ষতিকর নয়; বরং এর নিরাপত্তা অনেকটাই নির্ভর করে পণ্যের মান, ব্যবহারের পদ্ধতি, পরিচ্ছন্নতা এবং ব্যক্তির চোখের সংবেদনশীলতার ওপর। চোখের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখাও তাই সমান গুরুত্বপূর্ণ।