ওঙ্কার ডেস্ক : ভুয়ো খবর ছড়ানো বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে কর্নাটকের কংগ্রেস সরকার। সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য বা গুজব ছড়ালে ৭ বছর পর্যন্ত জেল ও সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার কথা উল্লেখ আছে নতুন প্রস্তাবিত আইনে। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ‘কর্নাটক মিসইনফরমেশন অ্যান্ড ফেক নিউজ প্রহিভিশন অ্যাক্ট’- এর একটি খসড়া তৈরি করেছে। আইনটি কার্যকর হলে কর্নাটক সরকারের হাতে আসবে বড়সড় ক্ষমতা। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিমূলক যেকোনও পোস্ট বা ভিডিও সরিয়ে ফেলতে পারবে এই আইনের সাহায্যে। এই আইনের আওতায় শুধু সাধারণ পোস্টই নয়, আসবে রাজনৈতিক দলের প্রচার, সভা-সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যও। অর্থাৎ কোনও প্রার্থী সম্পর্কে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা প্রচার চালালে, সেই দায়েও ব্যবস্থা নিতে পারবে সরকার বা নির্বাচন কমিশন।
বিগত বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের ইস্তাহারে ছিল ফেক নিউজের বিরুদ্ধে আইন আনার। কারণ, আগের বিজেপি সরকারের সময় রাজ্যে একাধিক সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো গুজব, বিকৃত ছবি বা ভিডিওই হিংসার উৎস হয়ে উঠেছে। সেইসব ঠেকাতে এবার কঠোর হচ্ছে সরকার। এই আইনের অধীনে ছয় সদস্যের একটি রেগুলেটরি বোর্ড গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এই বোর্ড সোশ্যাল মিডিয়ার বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখতে পারবে, এমনকি সাধারণ মানুষও বোর্ডের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন। মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য থাকবে বিশেষ আদালতের ব্যবস্থাও।
খসড়া বিলে আরও উল্লেখ করা হয়েছে কোনও ধর্মীয় প্রতীক, স্লোগান, দেবদেবী, ধর্মীয় নেতার ছবি বা কথার বিকৃতি ঘটিয়ে যদি কারও ভাবাবেগে আঘাত করা হয়, তাও এই আইনের আওতায় বিচারযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
ফেসবুক, এক্স-এর মতো সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলির সঙ্গে এখনই নানা বিষয়ে মতানৈক্য রয়েছে সরকারের। ভবিষ্যতে এই আইন কার্যকর হলে, এই সংস্থাগুলির প্রতিক্রিয়া কী হবে সেটা নিয়ে সংশয় আছে। আধিকারিকদের বক্তব্য, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অনেক সময়েই মঞ্চ থেকে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়, যা পরবর্তীতে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব ঘুরে সমাজে বিভ্রান্তি বা হিংসা ছড়াতে পারে। সরকার এই প্রবণতার স্থায়ী অবসান চায়।”
