নিজস্ব প্রতিনিধি, ফলতা; শ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ফলতায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফলতার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অন্তর্গত নিপা কোম্পানিতে বহু বছর ধরে শ্রমিকদের কাছ থেকে ‘কাটমানি’ নেওয়া হতো । দীর্ঘদিনের ‘কাটমানি’, অতিরিক্ত সময় কাজ করিয়েও প্রাপ্য মজুরি না দেওয়া, শ্রমিকদের ভয় দেখানো এবং রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামলেন একাধিক শ্রমিক। অভিযোগের তির জাহাঙ্গির ঘনিষ্ঠ তৃণমূল শ্রমিক ঠিকাদার সুরজিৎ প্রামাণিকের বিরুদ্ধে। শ্রমিকদের দাবি, জাহাঙ্গির খানের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় শ্রমিকদের উপর শোষণ চলেছে। বর্তমানে তাঁরা ন্যায্য অধিকার এবং প্রাপ্য অর্থ ফেরতের দাবিতে আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। অভিযোগ, কোম্পানিতে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে এবং চাকরি টিকিয়ে রাখার অজুহাতে তাঁদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হতো।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বাড়তি সময়ের কাজের অর্থের একটি বড় অংশ চলে যেত স্থানীয় রাজনৈতিক কার্যালয়ে। এই পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হতো জাহাঙ্গির খানের প্রভাববলয়ের মাধ্যমে এবং সেই টাকা পৌঁছে দেওয়ার কাজ করতেন সুরজিৎ প্রামাণিক।
এই বিষয়ে বুবাই হালদার নামে এক শ্রমিক জানান, “দীর্ঘদিন ধরে আমাদের কাছ থেকে কাটমানি নেওয়া হয়েছে। সুরজিৎ প্রামাণিক নামে ওই ব্যক্তি নিয়মিত টাকা নিত। জাহাঙ্গির খানের নেতৃত্বেই সবকিছু চলত। কেউ প্রতিবাদ করলে মারধর পর্যন্ত করা হতো। আমরা গরিব মানুষ, চাকরি চলে যাওয়ার ভয় ছিল। তাই চুপ করে থাকতে হয়েছে। কিন্তু এখন আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই।”
তিনি আরও বলেন, “রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে আমরা আশা করছি পরিস্থিতি বদলাবে। ইতিমধ্যেই বিজেপির কিছু নেতৃত্ব আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁরা আশ্বাস দিয়েছেন, আর কাটমানি দিতে হবে না। শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার কথা বলেছেন।”
অন্যদিকে, স্থানীয় বিজেপি নেতা দেবব্রত প্রামাণিক দাবি করেছেন, “এত বছর ধরে জাহাঙ্গির খানের নেতৃত্বে এখানে তোলাবাজি চলেছে। শ্রমিকদের কষ্টের টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। এখন সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। আমরা শ্রমিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ দিতে চাই। এক টাকাও আর কাউকে কাটমানি দিতে হবে না। শ্রমিকরা নিজেদের উপার্জিত টাকা নিজেরাই বাড়িতে নিয়ে যাবেন।”
বিশ্বজিৎয়ের দাবি, “আমাদের ঘাম ঝরানো টাকার একটা অংশ কাটমানি হিসেবে নেওয়া হয়েছে। এখন আমরা চাই সেই টাকা ফেরত দেওয়া হোক। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের উপর অত্যাচার হয়েছে। শ্রমিকদের মানুষ বলে মনে করা হয়নি।”
এই বিক্ষোভ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে এলাকায়। যদিও অভিযুক্ত সুরজিৎ প্রামাণিক বা তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগের বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি স্বাধীনভাবে। তবে শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে ইতিমধ্যেই ফলতা শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এখন দেখার, শ্রমিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন বা শ্রম দফতর কোনও তদন্তে নামে কিনা, এবং বহুদিনের জমে থাকা ক্ষোভের সুরাহা আদৌ হয় কি না। আপাতত ন্যায্য মজুরি, কাটমানি বন্ধ এবং শ্রমিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতেই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভরত শ্রমিকরা।