ওঙ্কার ডেস্ক: গ্রেটার নয়ডায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় সামনে এল নতুন তথ্য। সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিবাদের জেরেই এই ঘটনা বলে সন্দেহ পুলিশের। পুলিশ সূত্রের দাবি, পরিবারের সদস্যদের খাবারে বিষ মিশিয়েছিলেন বাবা মহেশ। রবিবার এক আধিকারিক এমনটা জানিয়েছেন। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৩৭ বছরের মহেশ, তাঁর ৩৫ বছরের স্ত্রী ললিতা, সাত বছরের মেয়ে মিষ্টি এবং দুই ছেলে লাড্ডু (১১) ও সাক্ষাৎ (৩)। শনিবার সকাল ৮টা নাগাদ নাগলা শ্রী পদম গ্রামের বাড়ির একটি ঘর থেকে তাঁদের দেহ উদ্ধার হয়।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে খাদ্যে বিষক্রিয়া বলে মনে করা হয়েছিল। জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি মেলায় গিয়েছিল পরিবারটি। রাত প্রায় ১০টা নাগাদ তারা বাড়ি ফেরে। অভিযোগ, রাতের খাবারে নুডলস খেয়েছিল সকলে। এরপরই অসুস্থ হয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। তবে তদন্তে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, মহেশ নুডলসে বিষ মিশিয়েছিলেন। তাঁর মোবাইল ফোন থেকে একটি অডিয়ো নোটও উদ্ধার হয়েছে। সেখানে নিজের পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যুর জন্য দুই বোন ও এক ভগ্নিপতিকে দায়ী করেছেন।
মহেশের দুই বোন এবং এক ভগ্নিপতিকে ইতিমধ্যেই হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। পরিবারের সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল বলে জানিয়েছেন মহেশের বৌদি নীরজ। তাঁর দাবি, এই বিরোধ থেকেই পরিবারের মধ্যে অশান্তি তৈরি হয়েছিল। নীরজ আরও অভিযোগ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। মহেশ তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা আবার একসঙ্গে থাকবেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকদেরও সন্দেহ, এটি সাধারণ খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা নয়। তাঁদের অনুমান, কোনও বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে। খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক ওপি সিং জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে খাবারের মোড়ক ও অন্যান্য সামগ্রী পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ কোনও খাবার পাওয়া যায়নি। তাঁর কথায়, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে খাদ্যে বিষক্রিয়া বলে মনে হচ্ছে না। বরং বিষাক্ত পদার্থের প্রভাবে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তিনি আরও জানান, মৃতদের বমি বা ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ ছিল না। সাধারণত খাদ্যে বিষক্রিয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের লক্ষণ দেখা যায়। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃত শিশুদের মধ্যে এক জনের মুখ দিয়ে ফেনা বেরোতেও দেখা গিয়েছে।