ওঙ্কার ডেস্ক : মহারাষ্ট্রে মহিলা চিকিৎসকের আত্মহত্যা ও ধর্ষণ কাণ্ডে তৎপর হল জাতীয় মহিলা কমিশন। কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা রুজু করেছে। এই মর্মে রাজ্যের ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশকে চিঠি পাঠালেন কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকর। তিনি ওই চিঠিতে নির্দেশ দিয়েছেন, সব দিক থেকে অভিযোগ খতিয়ে দেখে পাঁচ দিনের মধ্যে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিতে হবে।
শুক্রবার ডিজি-কে লেখা চিঠিতে জাতীয় মহিলা কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কর্মক্ষেত্রে নারীর সুরক্ষা, সম্মান এবং তাঁর মানসিক সুস্থতা যাতে বজায় থাকে, তা নিশ্চিত করতেই হবে। মহারাষ্ট্রের ঘটনায় যাঁরা জড়িত, তাঁদের কড়া শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে পুলিশ-প্রশাসনকে। যদিও মূল অভিযুক্ত সাব- ইনস্পেক্টরকে বরখাস্ত করা হলেও তাঁর খোঁজ মেলেনি। মহারাষ্ট্র পুলিশ তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের সন্ধানে তৎপর রয়েছে পুলিশের একটি বিশেষ টিম।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসায় মহারাষ্ট্রে আলোড়ন পড়ে যায়। আত্মহত্যার আগে মহারাষ্ট্রের সাতারার ফালতান উপ-জেলা হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ২৬ বছর বয়সী এই তরুণী তার হাতের তালুতে লিখেছিলেন যে একজন সাব-ইন্সপেক্টর তাকে চারবার ধর্ষণ করেছেন। ওই তরুণী চিকিৎসক চার পৃষ্ঠার একটি সুইসাইড নোট রেখে গেছেন। যেখানে তিনি লিখেছেন, তাঁকে পুলিশ মামলায় অভিযুক্তদের জাল ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। সেই কাজ প্রত্যাখ্যান করায় নানা ভাবে তাঁকে হেনস্থা করা হতে থাকে। ওই চিঠিতে তিনি লিখেছেন, চাপ কেবল পুলিশ কর্মকর্তাদের থেকেই নয়, এমনকি একজন সংসদ এবং তাঁর দুই ব্যক্তিগত সহকারীও জাল সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। মৃত্যুর আগে ওই তরুণী চিকিৎসক তাঁর হাতের তালুতে লিখে গেছেন, সাব-ইন্সপেক্টর গোপাল বাদনে তাঁকে চারবার ধর্ষণ করেছেন এবং পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে তাঁকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। ওই তরুণী ২৩ মাস ধরে হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। গ্রামাঞ্চলে চাকরির জন্য তাঁর বন্ড পিরিয়ড মাত্র এক মাস আগে শেষ হওয়ার পর তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য পরিকল্পনা করেছিলেন।
ওই চার পৃষ্ঠার চিঠিতে তিনি লিখেছেন যে পুলিশ অফিসাররা তাঁকে অভিযুক্তদের জন্য জাল ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হত। যাদের অনেককেই মেডিকেল পরীক্ষার জন্যও আনাই হত না। যখন তিনি এই কাজ করতে অস্বীকার করেন তখন বাদনে এবং অন্যরা তাকে হয়রানি করত।
একটি বিশেষ ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, জাল সার্টিফিকেট দিতে অস্বীকার করায় এক সাংসদের দুইজন ব্যক্তিগত সহকারী হাসপাতালে এসে তাঁকে ফোন করতে বলেন। সেই সাংসদ তাঁকে পরোক্ষভাবে হুমকি দিয়েছিলেন। কোলহাপুর ডিভিশনের পুলিশ অধিকর্তা সুনীল ফুলারি সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, “এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। সাতারা জেলায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় জড়িত পুলিশ অফিসারকে বরখাস্ত করা হয়েছে।”
এই ঘটনায় মহারাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক এখন তুঙ্গে। রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। রাজ্যের কংগ্রেস নেতা বিজয় নামদেবরাও ওয়াদেত্তিওয়ার তাঁর X- এ বলেছেন,” রক্ষকই শিকারী হয়ে উঠেছে ! পুলিশের দায়িত্ব হল রক্ষা করা, কিন্তু যদি তারা নিজেরাই একজন মহিলা ডাক্তারকে শোষণ করে, তাহলে ন্যায়বিচার কি ভাবে হবে ? এই মেয়েটি আগে অভিযোগ দায়ের করার পরেও কেন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি ? মহাযুতি সরকার বারবার পুলিশকে রক্ষা করে, যার ফলে পুলিশি অত্যাচার বৃদ্ধি পাচ্ছে।”
বিজেপি অবশ্য ইতিমধ্যে আশ্বাস দিয়েছে যে এই ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। বিজেপি নেত্রী চিত্রা ওয়াঘ বলেছেন, “ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক, আমি সাতারা পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছি… আমাদের নজরে এসেছে যে ডাক্তার অভিযোগ করেছিলেন কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই ঘটনায় সবকিছু তদন্ত করা হবে… আমি সমস্ত মহিলার কাছে আবেদন জানাতে চাই যে এত চরম পদক্ষেপ নেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই… আমাদের সরকার সাহায্য করতে প্রস্তুত। এই ধরনের অভিযোগ নথিভুক্ত করার জন্য ১১২ হেল্পলাইন ব্যবহার করা উচিত, তাহলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
