পূজো মানেই নতুন জামা, সুন্দর করে সাজা আর জমিয়ে মেকআপ! ষষ্ঠী থেকে দশমী, প্রতিদিনই কখনও ট্র্যাডিশনাল লুক, কখনও ওয়েস্টার্ন সাজ, আবার কখনও চোখে গাঢ় কাজল আর ঠোঁটে নজরকাড়া লিপস্টিক। কিন্তু সারাদিনের সাজগোজের পর বাড়ি ফিরে মেকআপ তোলার সময় কি ত্বকের যত্ন নিচ্ছেন ঠিকমতো? মনে রাখবেন, সুন্দর মেকআপের পাশাপাশি সুস্থ, উজ্জ্বল ত্বক ধরে রাখতে মেকআপ তোলার সঠিক পদ্ধতি জানা অত্যন্ত জরুরি। কারণ ভুলভাবে মেকআপ তুললে ত্বকে জ্বালা, শুষ্কতা, ব্রণ কিংবা চোখের চারপাশে অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
১. মেকআপ তোলার জন্য বেছে নিন সঠিক প্রোডাক্ট
মুখে মেকআপ থাকলে সরাসরি সাবান বা ফেসওয়াশ দিয়ে ঘষে তা তোলার চেষ্টা করবেন না। এর পরিবর্তে নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী মাইসেলার ওয়াটার, মেকআপ রিমুভার বা ক্লেনজিং বাম ব্যবহার করুন। ওয়াটারপ্রুফ মাসকারা, আইলাইনার কিংবা দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী লিপস্টিক তুলতে তেলভিত্তিক মেকআপ রিমুভার বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে। তবে সংবেদনশীল ত্বক হলে সুগন্ধিবিহীন ও কোমল ফর্মুলার প্রোডাক্ট বেছে নেওয়াই ভালো।
২. মুখে জোরে ঘষাঘষি একেবারেই নয়
মেকআপ তোলার সময় অনেকেই তুলো বা ওয়াইপ দিয়ে মুখে জোরে ঘষতে থাকেন। এই অভ্যাস ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষাস্তর ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বরং তুলোয় মেকআপ রিমুভার নিয়ে কয়েক সেকেন্ড আলতো করে ত্বকের উপর ধরে রাখুন, তারপর ধীরে মুছে ফেলুন। বিশেষ করে চোখের চারপাশের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাই সেখানে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন।
৩. ডাবল ক্লেনজিং হতে পারে ভালো উপায়
ভারী মেকআপ বা সানস্ক্রিম ব্যবহার করলে ডাবল ক্লেনজিং কাজে আসতে পারে। প্রথমে ক্লেনজিং অয়েল, বাম অথবা মাইসেলার ওয়াটার দিয়ে মেকআপ ও সানস্ক্রিম তুলে নিন। এরপর ত্বকের উপযোগী মৃদু ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। তবে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক বা সংবেদনশীল হলে এমন ক্লেনজার ব্যবহার করুন, যা ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৪. চোখ ও ঠোঁটের মেকআপ তুলুন বিশেষ যত্নে
পুজোর সাজে চোখে গ্লিটার, স্মাজপ্রুফ কাজল কিংবা ওয়াটারপ্রুফ মাসকারা থাকলে তা তোলার জন্য নির্দিষ্ট আই মেকআপ রিমুভার ব্যবহার করুন। চোখে প্রোডাক্ট ঢুকতে দেবেন না এবং চোখের পাতা টেনে বা ঘষে মেকআপ তুলবেন না। একইভাবে, ঠোঁটের লিপস্টিকও আলতোভাবে তুলে নিয়ে ঠোঁটে লিপ বাম লাগিয়ে নিন। চোখে জ্বালা হলে পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে নিন।
৫. মেকআপ তোলার পর ময়েশ্চারাইজার লাগাতে ভুলবেন না
মেকআপ তুলে মুখ পরিষ্কার করার পর ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার লাগান। এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। ত্বক তৈলাক্ত হলেও ময়েশ্চারাইজার এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়; বরং হালকা, নন-কমেডোজেনিক ফর্মুলা বেছে নিতে পারেন। ত্বক যদি সংবেদনশীল হয়, তাহলে নতুন কোনও প্রোডাক্ট ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া ভালো।
৬. মেকআপ নিয়ে কখনও ঘুমোতে যাবেন না
পূজোর রাতে যতই ক্লান্ত থাকুন না কেন, মেকআপ না তুলে ঘুমিয়ে পড়বেন না। মুখে মেকআপ, অতিরিক্ত তেল ও ময়লা জমে থাকলে রোমকূপ বন্ধ হওয়া এবং ব্রণ বাড়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। তাই বাড়ি ফিরে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মেকআপ তুলে ত্বক পরিষ্কার করে নিন।
মনে রাখবেন, ত্বকের যত্নে দামি প্রোডাক্টের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সঠিক পদ্ধতি এবং নিয়মিত পরিচর্যা। পূজোর পাঁচ দিন সাজুন নিজের মনের মতো, তবে ত্বকের স্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস নয়। মেকআপ তুলুন ধীরে, ত্বক পরিষ্কার রাখুন এবং পর্যাপ্ত আর্দ্রতা বজায় রাখুন। তাহলেই উৎসবের সাজের পাশাপাশি ত্বকও থাকবে সতেজ ও সুন্দর।