নিজস্ব সংবাদদাতা: ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় ফের কেঁপে উঠল সৌদি আরব। শনিবার ১৩ জনের মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রবিবার ফের রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আঘাত হানল হুথিরা। টার্মিনাল ৪-এ অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল আছড়ে পড়ে আগুন লেগে যায়, মৃত্যু হয় এক জনের, আহত অন্তত ১১ জন। সৌদির অসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছে।
বিমানবন্দর চত্বরেই সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ক্রুজ মিসাইলও প্রতিহত করেছে। গত এক সপ্তাহে এই নিয়ে একাধিকবার হামলার মুখে পড়ল রিয়াধ বিমানবন্দর। পরপর হামলার জেরে কিং খালিদ বিমানবন্দরের সব উড়ান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
গত পাঁচ দিনে চার বার আক্রান্ত হয়েছে বিমানবন্দরটি। শনিবারের হামলাটি গত এক দশকে সৌদির মাটিতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ছিল, যেখানে এক ভারতীয় সহ ১৩ জন নিহত এবং ৩০০-র বেশি মানুষ আহত হন, অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, উমরাহ যাত্রীরা বোর্ডিংয়ের জন্য অপেক্ষা করছেন, তখনই কমলা রঙের তীব্র আলোর ঝলকানি এবং বিস্ফোরণ, ছাদের একাংশ ভেঙে পড়ছে, যাত্রীরা প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি করছেন।
ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী গত ২৪ ঘণ্টায় রিয়াধ ছাড়াও পূর্বাঞ্চলের দাম্মাম বিমানবন্দর সহ একাধিক হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা সৌদির বিমানবন্দরগুলিকে “আমাদের বাহিনীর জন্য অপারেশন থিয়েটার” বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে হামলা চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে। হুথি-বিরোধী জোট এই হামলাকে “পুরোদস্তুর যুদ্ধাপরাধ” বলে কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা সৌদির বিমানবন্দরগুলিতে উড়ান বাতিল করেছে। ভারত-সহ বেশ কয়েকটি দূতাবাস নাগরিকদের সতর্ক করে সৌদির আকাশপথ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে, কারণ হুথিরা বারবার সৌদির আকাশসীমা ব্যবহার নিয়ে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে।
এদিকে হুথিদের দাবি, রিয়াধে হামলার ঠিক আগেই তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইয়েমেনের রাজধানী সানার বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে সৌদি। রবিবার রাতেও সানায় হামলার খবর দিয়েছে হুথি-নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরা টিভি, যদিও সৌদি এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
বছরের পর বছর ধরে সামরিক খাতে হাজার হাজার কোটি ডলার ঢেলেও হুথি হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে রিয়াধ। ইয়েমেন যুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন করে আসছে সৌদি, আর এই নতুন ফ্রন্টে মার্কিন জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।