ওঙ্কার ডেস্ক: প্রাক্তন ফুটবলার প্রশান্ত ব্যানার্জির পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। তাঁর ছোট ছেলে প্রণোজিতের মৃত্যু হয়েছে রবিবার ভোরে। মাত্র ৩১ বছর বয়সে জীবনযুদ্ধ থেমে গেল প্রণোজিতের। চার বছর আগে মাথায় টিউমার ধরা পড়ার পর থেকেই দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
মল্লিকবাজারের নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন প্রণোজিত। চিকিৎসা শেষ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছিলেন, নিয়মিত অফিসেও যেতেন। পরিবার ও কাছের মানুষজনের কাছে মনে হয়েছিল, কঠিন সময় পেরিয়ে নতুন করে জীবন আবার ছন্দে ফিরছে। কিন্তু সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। গত বছরের গোড়ার দিকে আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রণোজিত। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় প্রশান্ত ব্যানার্জি ও তাঁর স্ত্রী ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য চেন্নাইয়ে যান। সেখানে চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। তবে ফের আচমকাই শরীরের অবনতি ঘটে। ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। শেষ পর্যন্ত সল্টলেক স্টেডিয়ামের অদূরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। রবিবার ভোরে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রণোজিত।
এই অকালপ্রয়াণে শুধু ব্যানার্জি পরিবারই নয়, শোকস্তব্ধ বাংলা ফুটবল মহলও। ময়দানে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পিকে ব্যানার্জি, অমল দত্তদের প্রয়াণের পর বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত ফুটবল প্রতিযোগিতায় প্রশান্ত ব্যানার্জির নিয়মিত উপস্থিতি ছিল পরিচিত দৃশ্য। সুব্রত ভট্টাচার্যের মতো তিনিও মাঠে মাঠে ঘুরে খেলাকে ও খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতেন। তবে ছেলের দীর্ঘদিনের অসুস্থতার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সেই উপস্থিতি অনেকটাই কমে গিয়েছিল। প্রণোজিতের মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার। শোকাহত প্রশান্ত ব্যানার্জি ও তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ান ফুটবল মহলের বহু পরিচিত মুখ।
