ওঙ্কার স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখল গোটা বিশ্ব। দুই দশক পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছে চেক প্রজাতন্ত্র-র দেশ চেকোস্লাভিয়া। অন্যদিকে, হং মিয়ং-বোর অধীনে দুর্দান্ত ছন্দে বাছাইপর্ব পেরিয়ে এসেছে দক্ষিণ কোরিয়া। যদিও টুর্নামেন্টের শিরোপা-প্রত্যাশীদের তালিকায় নেই কোনো দলই, তবুও স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত তুলনামূলক সহজ গ্রুপে শেষ ষোলোয় ওঠার স্বপ্ন দেখছে উভয় পক্ষ। এর আগে তিনটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেখানে একটি করে জয় পেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র। দক্ষিণ কোরিয়ার স্কোয়াডে বিশ্বকাপের আগে বড় কোনো নতুন ইনজুরির সমস্যা নেই। তবে চোট পাওয়া ডিফেন্ডার চো ইউ-মিনের বদলে অনভিষিক্ত চো উই-জেকে দলে ডাকা হয়েছে। তবে কোরিয়ার সব আলো স্বাভাবিকভাবেই থাকবে অধিনায়ক ও তারকা ফরোয়ার্ড হিউং-মিন সনের ওপর। ৩৩ বছর বয়সি এই ফরোয়ার্ডের জন্য এটি হয়তো শেষ বিশ্বকাপ। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে থাকা সনের কাছে তাই এবারের আসর বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ২০০২ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার ঐতিহাসিক সেমিফাইনাল যাত্রার অন্যতম নায়ক ছিলেন বর্তমান কোচ হং মিয়ং-বো। তবে এবার বাস্তবতা ভিন্ন। মিডফিল্ডে একাধিক চোটের কারণে তিনি কৌশলগতভাবে তিন ডিফেন্ডারের ফরমেশনে ঝুঁকেছেন। জার্মানিতে জন্ম নেয়া জেন কাস্ট্রপের বহুমুখী ভূমিকা এই পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এদিকে ২০০৬ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে চেক প্রজাতন্ত্র। বাছাইপর্বে আয়ারল্যান্ড ও ডেনমার্ককে টাইব্রেকারে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে তারা। এক সময় পাভেল নেদভেদ, টমাস রসিস্কি ও কারেল পোবোরস্কির মতো তারকায় সমৃদ্ধ ছিল চেক মিডফিল্ড।
এবার সেই জায়গার সবচেয়ে বড় নাম ওয়েস্ট হ্যামের মিডফিল্ডার টমাস সউচেক। কোচ মিরোস্লাভ কউবেকের দল হয়তো তারকাখচিত নয়, কিন্তু তাদের খেলার ধরন অত্যন্ত পরিষ্কার ও কার্যকর। উইং-ব্যাকদের মাধ্যমে একের পর এক ক্রস তুলে দেয়া এবং সেগুলোকে কাজে লাগানোই তাদের প্রধান অস্ত্র। চেকদের সবচেয়ে বড় চমক হতে পারেন তরুণ মিডফিল্ডার পাভেল সুলচ। লিঁওর হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটানো এই ফুটবলার লিগ ওয়ানে ২১টি গোল অবদানের মাধ্যমে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার রয়েছে বেশি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং বড় মঞ্চে চমক দেখানোর ইতিহাস। জার্মানি ও পর্তুগালের মতো শক্তিশালী দলকে হারানোর স্মৃতি এখনও টাটকা। তবে চেক প্রজাতন্ত্রের শারীরিক ফুটবল, পরিষ্কার খেলা এবং সেট-পিসের দক্ষতা ম্যাচটিকে সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে। বিরতির পর আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন হাওয়াংরা। কিন্তু একের পর এক গোল মিসে দলের মধ্যে হতাশ বাড়ছিল। তার মধ্যেই ৫৯ মিনিটে চেক প্রজাতন্ত্রের গোল। অনবদ্য থ্রো ইনে মাথা ছুঁইয়ে জালে বল জড়িয়ে দেন লাদিস্লাভ ক্রেজচি। ওই গোলেই যেন নতুন করে উদ্দীপনা এল কোরীয় আক্রমণে। ৬৭ মিনিটে গোলকিপারের আঙুলের একেবারে সামনে দিয়ে বল তেকাঠিতে পাঠালেন হাওয়াং।