গোপাল শীল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : সুন্দরবনের মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা ও টেকসই সমাজ গঠনে অবদানের স্বীকৃতি পেলেন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মুক্তির প্রতিষ্ঠাতা শঙ্কর হালদার। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার পালো অল্টোতে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁকে সম্মানিত করল ICA (ইন্ডিয়ানস ফর কালেক্টিভ অ্যাকশন)। দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি বিধানসভার পূর্ব শ্রীধরপুর এলাকার সন্তান শঙ্কর হালদার দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের পরিবেশ সংরক্ষণ, প্রান্তিক মানুষের স্বনির্ভরতা এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কাজ করে চলেছেন।
২০২৬ সালের জুলাই মাসে আমেরিকার নিউ ইয়র্কে আয়োজিত রাষ্ট্রপুঞ্জের ‘হাই-লেভেল পলিটিক্যাল ফোরাম’-এ যোগ দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে সুন্দরবনের জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জলন্ত সমস্যা ও সংকটের কথা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপুঞ্জের “বিয়ন্ড জিডিপি” সংলাপে অংশ নিয়ে সুন্দরবনের প্রান্তিক মানুষের অধিকার এবং পরিবেশগত সুরক্ষার পক্ষে তাঁর এই জোরালো সওয়াল আন্তর্জাতিক মহলে ভূয়সী প্রশংসা ও বিশেষ সম্মান লাভ করেছে।
শঙ্কর হালদারের নেতৃত্বে ‘মুক্তি’ সংস্থাটি গত দুই দশক ধরে সুন্দরবনের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বহুমুখী ও টেকসই মডেল নিয়ে কাজ করছে। যেমন-
গ্রিন ডিফেন্স ও ম্যানগ্রোভ রোপণ : ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এবং নদীর বাঁধ রক্ষা করতে স্থানীয় মহিলাদের সহায়তায় মাইলের পর মাইল ম্যানগ্রোভ এবং ভেটিভার ঘাস রোপণ করে প্রাকৃতিক প্রাচীর বা ‘গ্রিন ডিফেন্স’ গড়ে তোলা হয়েছে ।
দুর্যোগ সহনশীল বাড়ি : স্থানীয় উপকরণ ব্যবহার করে এমন বাড়ি তৈরির প্রকল্প যা আইলা বা আমপানের মতো বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় সহ্য করতে সক্ষম। এর জন্য সংস্থাটি ‘ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স’ থেকে সামাজিক প্রভাব পুরস্কারও পেয়েছে ।
জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও পুকুর সংস্কার : নোনা জলের আগ্রাসন থেকে চাষবাস বাঁচাতে লবণের প্রকোপ সহনশীল বিকল্প ও জৈব চাষের বিস্তার ঘটানো হয়েছে। পাশাপাশি মিঠা জলের সংকট মেটাতে ১০০টিরও বেশি পুকুর পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে।

সুন্দরবনের ভূমিপুত্র আইটি পেশাদার শঙ্কর হালদার নিজের ক্যারিয়ারের পাশাপাশি নিজ ভূমির মানুষের টেকসই উন্নয়নে যেভাবে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন, আমেরিকার মঞ্চে তাঁর এই সম্মানপ্রাপ্তি সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের পরিবেশ আন্দোলনের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।
এই সম্মাননাকে ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়, বরং মুক্তির সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছেন শঙ্কর হালদার। সংস্থার কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং সুন্দরবনের মানুষের অবদানকেই এই সাফল্যের মূল ভিত্তি বলে মনে করেন শঙ্কর হালদার। আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই স্বীকৃতি আগামী দিনে সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষা ও মানুষের উন্নয়নে আরও কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে আশাবাদী মুক্তি পরিবার।