ওঙ্কার ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের লাগাতার বৃদ্ধির প্রভাব পড়ল দেশের জ্বালানির বাজারে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ানো হল পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন মূল্যে দেশের বিভিন্ন শহরে লিটার প্রতি জ্বালানির দামে প্রায় ৯০ পয়সা পর্যন্ত বৃদ্ধি হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর আগেও চলতি মাসে এক দফা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল। সেই সময় লিটার প্রতি পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ৩ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তার কিছু দিনের মধ্যেই ফের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তে পরিবহণ ক্ষেত্র থেকে শুরু করে বাজারদরের উপরও প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশেষ করে পণ্য পরিবহণের খরচ বাড়লে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তেল বিপণন সংস্থাগুলির দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় সংস্থাগুলির উপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং উৎপাদন সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দীর্ঘদিন ধরেই ঊর্ধ্বমুখী। তারই সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের বাজারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত যেহেতু বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তাই আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেই দেশের জ্বালানির খরচ বেড়ে যায়।
নতুন দামের ফলে দেশের একাধিক মহানগরে পেট্রোলের দাম প্রায় শতকের ঘরে পৌঁছে গিয়েছে। কলকাতায় পেট্রোলের দাম ১১০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে ডিজেলের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজ্যভেদে ভ্যাট ও অন্যান্য করের তারতম্যের কারণে বিভিন্ন শহরে দামের কিছু পার্থক্য দেখা গেলেও সামগ্রিক ভাবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি দেশের সব প্রান্তেই প্রভাব ফেলেছে।
জ্বালানির দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিদিন কর্মস্থলে যাতায়াত, পণ্য পরিবহণ এবং কৃষিক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সরব হয়েছে। তাদের অভিযোগ, মূল্যবৃদ্ধির ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের উপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।
যদিও কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, দেশে জ্বালানির কোনও ঘাটতি নেই এবং পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যদি আরও বাড়তে থাকে, তা হলে আগামী দিনে আবারও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।