ওঙ্কার ডেস্ক: অবশেষে প্রকাশ্যে এল কলকাতার কুখ্যত গুন্ডা বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু। দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা পুলিশের নজর এরিয়ে গা ঢাকা দিয়ে ছিল সোনা পাপ্পু। এদিন ইডির অফিসে ঢোকার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সে জানায়, সে কোনো রকম অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নয়।
দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে সোমবার কলকাতার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দফতরে হাজিরা দিলেন বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু। দক্ষিণ কলকাতার প্রভাবশালী এই ব্যবসায়ীকে ঘিরে একাধিক গুরুতর অভিযোগের তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়েছে। জমি দখল, তোলাবাজি, আর্থিক অনিয়ম, বেআইনি সম্পত্তি বৃদ্ধি এবং অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগে তাঁর নাম উঠে আসায় এই হাজিরা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ইডি দফতরে পৌঁছে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সোনা পাপ্পু নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তিনি জানান, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। নিজের ব্যবসায়িক পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি বৈধ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং কখনও তোলাবাজি বা অপরাধমূলক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাসে সোনা পাপ্পুর একাধিক বাড়ি, অফিস এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। সেই অভিযানে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, সোনার গয়না, সম্পত্তির নথি, দামি গাড়ি এবং আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলে খবর। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল, বেআইনি আর্থিক লেনদেন এবং স্থানীয় স্তরে ভয় দেখিয়ে আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ।
এই মামলায় ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম জড়িয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, সোনা পাপ্পু শুধুমাত্র একক ব্যক্তি নন, বরং একটি বৃহত্তর আর্থিক ও অপরাধচক্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারেন। তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ থেকে সেই নেটওয়ার্কের বিস্তার, আর্থিক উৎস এবং রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক যোগসূত্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় তাঁর প্রভাব নিয়ে বহুদিন ধরেই নানা মহলে আলোচনা চলছিল। অভিযোগ, স্থানীয় স্তরে সম্পত্তি দখল, ব্যবসায়ীদের উপর চাপ সৃষ্টি এবং বেআইনি আর্থিক প্রভাব বিস্তারে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। যদিও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবু ইডি-র তদন্তে একের পর এক তথ্য সামনে আসায় মামলাটি আরও জটিল আকার নিচ্ছে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে যথেষ্ট চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সোনা পাপ্পুর হাজিরা এবং পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য উঠে এলে কলকাতা ও রাজ্যের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়েও আরও বড় তদন্তের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এই ঘটনায় নজর এখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।