নিজস্ব প্রতিবেদন, আলিপুর : কুম্ভ নেই, তাই সাগরে এবার আরও বেশি পুণ্যার্থীর সমাগম হবে, এমনটাই মনে করছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। বুধবার আলিপুর প্রশাসনিক ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে একথা জানালেন দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলা সভাধিপতি নীলিমা মিস্ত্রি বিশ্বাস। এজন্য প্রায় ১৫ হাজারের বেশি পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানালেন, ক্যানিং-সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার কোটেশ্বর রাও। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক অরবিন্দ কুমার মিনা বললেন, “প্রশাসন প্রস্তুত। সরকারের সমস্ত দপ্তর সমন্বয় করে গঙ্গাসাগর মেলার কাজ শেষের পথে। এবার ঠান্ডার কারণে কুয়াশা বিপত্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে চলেছে ২০২৬ সালের গঙ্গাসাগর মেলা। মেলা শুরুর আগে আগামী ৫ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সাগরদ্বীপে এসে প্রস্তুতির চূড়ান্ত রূপরেখা খতিয়ে দেখবেন। এবছর গঙ্গাসাগর মেলায় রেকর্ড ভিড়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে। চলতি বছরে কুম্ভ মেলা না থাকায় দেশ-বিদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর ঢল নামতে পারে সাগরমুখে। সেই কথা মাথায় রেখেই পরিবহন ব্যবস্থা, পানীয় জল সরবরাহ, অস্থায়ী শৌচালয় ও বিদ্যুৎ পরিষেবা নিশ্চিত করতে দফায় দফায় বৈঠক করছেন মন্ত্রীরা।গঙ্গাসাগর মেলার মূল আকর্ষণ মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নান। চলতি বছরে ১৪ জানুয়ারি, বুধবার মহালগ্নে শুরু হবে স্নানের মাহেন্দ্রক্ষণ। ওই দিন বিকেল ৩টা ১৩ মিনিটে সূর্য মকর রাশিতে প্রবেশ করার পর ‘মহা পুণ্যকাল’ শুরু হবে। এই পুণ্যকাল চলবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। ফলে ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি—এই দু’দিনই পুণ্যস্নানের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

এক সময়ে গঙ্গাসাগর ছিল দুর্গম অঞ্চল। তাই তখন থেকে প্রচলিত একটি কথা বলা হত, সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার। কিন্তু সেই মিথ এখন আর নেই। এখন গঙ্গাসাগর মেলায় যাওয়ার জন্য সরকারের তরফে যে ব্যবস্থাপনা থাকে তাতে সেই মিথ উল্টে গিয়েছে। এখন বলা হয় সব তীর্থ একবার, গঙ্গাসাগর বারবার। এদিনের এই বিশেষ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগণার জেলা শাসক অরবিন্দ কুমার মিনা, সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও, দক্ষিণ ২৪ পরগণার জেলা সভাধিপতি নীলিমা মিস্ত্রি বিশ্বাস সহ জেলার অন্যান্য আধিকারিকেরা।
