ওঙ্কার ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করেছেন শনিবার। তার ২৪ ঘন্টা যেতে না যেতে এবার লক্ষ কন্ঠে কোরান পাঠের ঘোষণা করলেন তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। রবিবার তিনি এ কথা ঘোষণা করেছেন। ঘটনাচক্রে এদিনই কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে পাঁচ লক্ষ কন্ঠে গীতাপাঠের আয়োজন করেছে সনাতন সংস্কৃতি সংসদ নামের এক সংগঠন। যেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস, ছিলেন বিজেপির শমীক ভট্টাচার্য, দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে রাজ্য স্তরের বহু নেতা। যার ফলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে তীব্র হতে চলেছে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি।
কোরান পাঠের আয়োজন কেন? হুমায়ুন কবীর এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সনাতনী ভাই-বোনেরা গীতাপাঠ করেন, এতে আমার সম্মান আছে। তাঁরা গীতাকে মর্যাদা দেন— সেটা তাঁদের ধর্মীয় অধিকার। একই ভাবে মুসলমানদের রাজনৈতিক ভাবে শক্তিশালী করতে, ভবিষ্যতে আমি বৃহৎ আকারে কোরান পাঠের আয়োজন করব।’ ভরতপুরের বিধায়ক জানান, প্রায় এক লক্ষ হাফেজ (কোরান মুখস্থ যাঁদের) নিয়ে সারা দিনব্যাপী বড় জমায়েত করে সেখানে কোরান পাঠের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। মুর্শিদাবাদেই সেই আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি। যাঁরা অংশগ্রহণ করবেন তাঁদের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন হুমায়ুন।
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে ৬ ডিসেম্বর উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংস করেছিল করসেবকরা। সেই ঘটনার প্রতিবাদে গত বছর হুমায়ুন কবীর ঘোষণা করেছিলেন তিনি মুর্শিদাবাদে ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণ করবেন। সেই ঘোষণা অনুযায়ী তিনি মসজিদের শিলান্যাসের জন্য বেছে নেন ৬ ডিসেম্বর তারিখটিকে। পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় তিনি মসজিদের শিলান্যাস করেন। যদিও মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা করায় হুমায়ুনকে গত ৪ ডিসেম্বর তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
