ওঙ্কার ডেস্ক: ২৭ জুলাই রবিবার জার্মানির দক্ষিন-পশ্চিমের রাজ্য বাদেন ভ্যুটেমবার্গ এক ভয়ানক রেল দুর্ঘটনার সম্মুক্ষীন হল। ঐদিন সন্ধ্যেবেলায় স্থানীয় সময় ৬ টা ১০ মিনিটে উল্মাগামী একটি রিজিনাল এক্সপ্রেস আচমকায় লাইনচ্যুত হয়ে পরে।সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৩, আহত ৩৪। মৃতের সংখ্যা আরও বারতে পারে বলে অনুমান।
সুত্রের খবর অনুযায়ী, জার্মানির দায়েনবাচ সংস্থার সিগ্মারিঙ্গেন থেকে উল্মাগামী একটি ট্রেনের দুটি কামরা লাইনচ্যুত হয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটছে ফরাসি সীমান্তের কাছে বিবেরাখ জেলায়। পুলিশী সূত্রে জানা গিয়েছে ব্যাপক বৃষ্টির কারনে ভুমিধ্বসের জন্যই এই দুর্ঘটনা ঘটছে।
দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটিতে প্রায় ১০০ জন যাত্রী ছিলেন। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল, উদ্ধারকারী দল ও জরুরি পরিষেবার কর্মীরা। ট্রেনের ভিতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে দ্রুত তৎপরতা শুরু হয়। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে চলছে উদ্ধার কাজ। সেই মুহূর্তে শোনা যাচ্ছে আতঙ্কগ্রস্ত যাত্রীদের চিৎকার, যা এই দুর্ঘটনার ভয়াবহতাকে আরও প্রকট করে তুলেছে। লাইনচ্যুত হওয়ার পর ট্রেনের একাধিক কামরা রেললাইন ছেড়ে ছিটকে গিয়ে পাশের জঙ্গলে ঢুকে পড়ে। একটি কামরা উল্টে গিয়ে ভেঙে পড়ে, পরে সেটিকে উদ্ধার করা হয়।
ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “বিবেরাখ জেলায় ট্রেন দুর্ঘটনার খবর আমাকে মর্মাহত করেছে। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পরিবহণমন্ত্রীর সঙ্গে আমি যোগাযোগ রাখছি এবং উদ্ধারকাজে সবরকম সাহায্য পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছি। আমরা নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।”
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, প্রবল বৃষ্টির জেরে সৃষ্ট ভূমিধসই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থমাস স্ট্রোব্ল জানিয়েছেন, “এই এলাকায় প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়েছিল। সেই বৃষ্টির কারণেই ভূমিধস হয়ে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে থাকতে পারে এ সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।” পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল এখনো তল্লাশি চালাচ্ছে। ঘটনাস্থল ও আশেপাশের এলাকায় সতর্কতা জারি রয়েছে।
