গুয়াহাটির বহুচর্চিত বিলাস ইন হোটেলে ৫ খুনের ঘটনার মূল অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। বুধবার শিবসাগর জেলার ফুলপানিচিগা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অসম পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক পাপোরি চেতিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের দাবি, ৩৪ বছর বয়সী গগৈকে অন্য একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গুয়াহাটি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার থেকে শিবসাগর নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। যাত্রাপথে শৌচকর্মের জন্য গাড়ি থামাতে বলে সে। গাড়ি থেকে নেমেই তদন্তকারী অফিসার, সাব-ইন্সপেক্টর দেবাশিস শর্মার সার্ভিস পিস্তল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘনকান্ত প্রশিক্ষিত শুটার হওয়ায় মুহূর্তে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ধস্তাধস্তির সময় দুই থেকে তিন রাউন্ড গুলি চলে। দুটি গুলি গিয়ে লাগে পুলিশের গাড়িতে, একটি গুলি লাগে দেবাশিস শর্মার ডান পায়ে। সহকর্মীকে বাঁচাতে অন্য এক পুলিশকর্মী পালটা গুলি চালান। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় গগৈয়ের।
কেন শিবসাগরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল?
২০২৪ সালে শিবসাগর থানায় দায়ের হওয়া একটি ব্যাঙ্ক প্রতারণার মামলায় অভিযুক্ত ছিল ঘনকান্ত। অভিযোগ, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক থেকে গাড়ি কেনার জন্য ঋণ নিয়ে কিস্তি শোধ করেনি সে। উলটে ঋণখেলাপির পর ব্যাঙ্কের তৎকালীন ম্যানেজার দেবব্রত বরগোঁহাইকে হুমকি দিয়েছিল। এই মামলাতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে শিবসাগর নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ৩ নভেম্বর গুয়াহাটি আদালত তার পুলিশ হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন খারিজ করে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠায়। এরপরই শিবসাগর পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
বিলাস ইন হোটেলে কী ঘটেছিল?
গত ২৬ অক্টোবর বরা সার্ভিস এলাকার বিলাস ইন হোটেলে গুলি চালিয়ে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগ ওঠে ঘনকান্তের বিরুদ্ধে। আহত হন আরও একজন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, হোটেলের মালিকপক্ষের সঙ্গে ভাড়ার চুক্তি ও সংস্কার নিয়ে বিবাদ চলছিল। বৈঠকের আগেই বচসা থেকে গুলি চালায় সে।
ঘটনার তদন্তে ছয় সদস্যের বিশেষ দল গঠন করেছিল অসম পুলিশ। বুধবারের ঘটনার পর ফুলপানিচিগা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। আহত পুলিশকর্মী দেবাশিস শর্মার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।