অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: আগামী ১৩ নভেম্বর ছটপুজো। সেই উপলক্ষ্যে রাজ্য সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই একগুচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জেলায় জেলায় ঘুরে জলাশয় ও তার পার্শ্ববর্তী নিরাপত্তা খতিয়ে দেখছেন স্থানীয় প্রশাসন। এমতাবস্থায় দক্ষিণ কলকাতার দুই বড় জলাশয়ে এবার ছটপুজো হবে কি না, তা নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে।
পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, রবীন্দ্র সরোবরে ভক্তদের পুজো করতে দেওয়ার বিষয়টি সরকার ভেবে দেখছে। তিনি জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এই ভাবনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আদালত। দূষণের অভিযোগে গত প্রায় নয় বছর ধরে রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে ছটপুজো বন্ধ। পুরমন্ত্রী অবশ্য বলছেন, পরিবেশ আদালতের সঙ্গে কথা না বলে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
বুধবার রবীন্দ্র সরোবর এবং সুভাষ সরোবরে ছটপুজো-নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অগ্নিমিত্রা বলেন, “ছটপুজো করতে দেওয়া হত না। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আমরা ভাবছি, এ বার রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো করতে দেব। কেন দেব না? ওখানকার মানুষগুলো কোথায় ছটপুজো করবেন!” তবে এ-ও জানিয়েছেন, রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো নিয়ে সতর্কতামূলক সব রকম পদক্ষেপ করা হবে। তাঁর কথায়, “গ্রিন ট্রাইবুনালের সঙ্গে আমরা কথা বলব। আমি নিশ্চিত, কোনও না কোনও পথ বেরিয়ে আসবে। আমরা ওখানে ময়লা করব না, করতেও দেব না।”
উল্লেখ্য, একসময় এই সরোবরে নিয়মিত ছট হত। পুজো শেষে লেকের জলে দূষণ বাড়ত, শব্দের মাত্রাও ছাড়িয়ে যেত। ঢাক, মাইক আর বাজির শব্দে অতিষ্ঠ হতেন আশপাশের বাসিন্দারা। এই পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে পরিবেশকর্মীরা আদালতে যান। দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে ২০১৭ সালে পরিবেশ আদালত দুই সরোবরে ছটে নিষেধাজ্ঞা দেয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ২০১৮ ও ২০১৯ সালে একদল মানুষ সরোবরে ঢুকে পুজো করেছিলেন। সেই ঘটনার পর পরিবেশকর্মীরা হাই কোর্টে যান। ২০২০ সালে হাই কোর্টও পরিবেশ আদালতের রায়কেই বহাল রাখে। এরপর সেই রায়ের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে যায় তৎকালীন রাজ্য সরকার। মামলাটি এখনও শেষ হয়নি। সুপ্রিম কোর্ট এখনও হাই কোর্টের রায়ে কোনও বদল আনেনি।
এই প্রেক্ষাপটে পরিবেশপ্রেমীদের প্রশ্ন, বিচারাধীন বিষয়ে সরকার কীভাবে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে? মূল মামলাকারী সুভাষ দত্তের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ সবার উপরে। কোনও রাজনৈতিক নেতার ইচ্ছেয় তা বদলাতে পারে না। লেকে পুজো হলে তিনি তা সুপ্রিম কোর্টকে জানাবেন। তাঁর পরামর্শ, পুজো করাতে চাইলে সরকারকে আগে শীর্ষ আদালতের কাছে যেতে হবে।
পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নব দত্ত মনে করছেন, রবীন্দ্র সরোবর দক্ষিণ কলকাতার শ্বাসপ্রশ্বাসের জায়গা। সেই জায়গা রক্ষার দায়িত্ব কেএমডিএ-র। সেই দফতরের মন্ত্রীর মুখে পুজোর অনুমতির কথা শুনে তিনি অবাক। তাঁর আশঙ্কা, এই ধরনের মন্তব্য উল্টো ফল ডেকে আনতে পারে।