ওঙ্কার ডেস্ক: গোয়ার আরপোরা এলাকায় ভয়াবহ নাইটক্লাব অগ্নিকাণ্ডের পাঁচ দিন পর তদন্তে নতুন মোড়। আগুনে বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় ক্লাবটির মালিক সৌরভ লুথ্রা এবং গৌরব লুথ্রার বিরুদ্ধে যে অভিযোগপত্র দায়ের হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্র তাদের পাসপোর্ট বাতিল করেছে। লুথ্রা ভাইদের পাসপোর্ট স্থগিত করার ফলে থাইল্যান্ডে তাদের “অনথিভুক্ত বিদেশী” হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যা থাই অভিবাসন আইনের অধীনে একটি অপরাধ। এই অভিবাসন নীতি লঙ্ঘনের ফলে বহিষ্কার প্রক্রিয়া দ্রুত করা সম্ভব। ভারতীয় কর্মকর্তারা তাদের থাই রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বার্তালাপ করেছেন এবং আশা করছেন যে, এই নির্বাসন প্রক্রিয়া সম্ভবত ২৪ থেকে ৩৬ ঘন্টার মধ্যে সম্পন্ন হবে।
গোয়া সরকারের অনুরোধেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। অগ্নিকান্ডের দিন রাতেই ক্লাবের মালিকরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসায় দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আগুন লাগার রাতে ক্লাবের ভিতরে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা অনুমোদিত সীমার বহু গুণ বেশি ছিল। জরুরি নির্গমনপথ কার্যত অচল ছিল, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ছিল এবং বারের একটি অংশ বেআইনিভাবে সম্প্রসারণ করা হয়েছিল। এসব তথ্য সামনে আসার পর থেকেই সন্দেহ ঘনীভূত হয়েছিল যে মালিকপক্ষ নিরাপত্তা বিধি অমান্য করেই ব্যবসা চালাচ্ছিল। পুলিশ সূত্রের দাবি, তদন্ত শুরুর আগেই লুথ্রা ভাইরা দেশত্যাগের চেষ্টা করেন এবং পরে থাইল্যান্ডে গিয়ে লুকিয়ে পড়েন। এই প্রেক্ষাপটেই তাদের পাসপোর্ট বাতিল করে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ‘ক্যাজুয়ালিটি বাই নেগ্লিজেন্স’ সহ একাধিক ফৌজদারি ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়ে গোয়া পুলিশ ইন্টারপোলের সাহায্য নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্লু কর্নার নোটিস জারি করা হয়েছে, যাতে বিদেশে তাদের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে তদন্তকারীদের হাতে পৌঁছনো যায়। এরপর রেড কর্নার নোটিস জারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, যদি তারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে না আসেন।
অন্যদিকে গোয়ার পর্যটনমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, এই অগ্নিকাণ্ড গোয়ার পর্যটন ব্যবসার ভাবমূর্তিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তাই এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে রাজ্যের সমস্ত নাইটক্লাব ও বার-রেস্তোরাঁয় নিরাপত্তা পরিকাঠামো নিয়ে হঠাৎ পরিদর্শন শুরু হয়েছে। আগুনের ঘটনায় গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে লাইসেন্স বাতিল করা হচ্ছে। বহু ক্লাবকে ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে নিহত এবং আহতদের পরিবারগুলির ক্ষোভও ক্রমশ বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, ক্লাবের ভিতরে যথাযথ সতর্কতা ব্যবস্থা থাকলে এত মানুষের প্রাণ যেত না। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কীভাবে এত বড় বেআইনি কাঠামো বা অতিরিক্ত ভিড়ের মতো বিষয় নিয়মিত পরিদর্শনে ধরা পড়েনি। এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন এখন মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এবং ফায়ার সেফটি বিভাগের ভূমিকা নিয়ে পৃথক বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে।
