ওঙ্কার ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের গডচিরৌলি জেলার দুর্গম ফূলনার গুন্ডুরওয়াহি অঞ্চলে প্রায় পাঁচ দশক ধরে মাওবাদীদের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। ঘন জঙ্গল ও কঠিন ভূখণ্ডের কারণে এই এলাকায় বহু বছর ধরে পুলিশের প্রবেশ সীমিত ছিল। মাওবাদী প্রভাবের অধীনে বহু গ্রামবাসী নিজের মতো করে একটি বিকল্প প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন, যাকে স্থানীয়ভাবে ‘জনতনা সরকার’ বলা হত। একই সঙ্গে, দীর্ঘদিনের সংঘর্ষ, অভিযান, মাইন বিস্ফোরণ এবং নিরাপত্তাহীনতা এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সম্প্রতি নিরাপত্তা বাহিনী বিশেষ অভিযানে জঙ্গলের ভিতরে একটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করেছে। সি-৬০ কমান্ডো, সিআরপিএফসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা রাতভর কাজ করে পোর্টা কেবিন, বাঙ্কার, নজরদারি টাওয়ার, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সুবিধাসহ একটি কার্যকর ক্যাম্প তৈরি করেন। বহু বছর পর এই এলাকা সরকারি প্রশাসনের স্থায়ী উপস্থিতির আওতায় এসেছে।
পরদিন সকালে উদ্বোধনী আয়োজনে আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সামনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা বৃদ্ধির আশ্বাস দেওয়া হয়। অন্যদিকে বহু গ্রামবাসীর মনে ছিল কৌতূহল ও সতর্কতা। নতুন পরিস্থিতি তাঁদের জীবনে কী বদল আনবে, তা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা এখনই তৈরি হয়নি। তাঁদের মধ্যে কেউ দীর্ঘদিনের সংঘাতমুখী পরিবেশের অবসানকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন, আবার কেউ অপেক্ষা করছেন বাস্তব পরিবর্তনের ফল দেখতে।
নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল এলাকার মানুষকে সরকারি সুবিধা ও পরিষেবার সঙ্গে নিয়মিতভাবে সংযুক্ত করা। একই সময়ে, দীর্ঘদিন ধরে এখানে থাকা মাওবাদী প্রভাবকে পুরোপুরি নির্মূল করার বিষয়টি তাঁরা সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। মাওবাদীদের তরফে এ বিষয়ে কোনও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অতীতে তাঁরা বাহিনীর উপস্থিতিকে নিজেদের অবস্থানের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেছেন, ফলে ভবিষ্যতে উত্তেজনা বাড়তে পারে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন আছে।
এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য পরিস্থিতি অনেকটাই নতুন। তারা বহু বছর ধরে সংঘর্ষের মাঝে বাঁচতে বাধ্য হয়েছেন। এখন পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পর তাঁদের আশা অন্তত মৌলিক পরিষেবা, চিকিৎসা, রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিক্ষা সুবিধার উন্নতি হবে। তবে একই সঙ্গে তারা চাইছেন, এই পরিবর্তন যেন তাঁদের দৈনন্দিন জীবনকে অস্থির না করে তোলে এবং জঙ্গলভিত্তিক জীবনযাত্রা, ঐতিহ্য ও সম্প্রদায়ের স্বাধীনতা বিঘ্নিত না হয়।
