ওঙ্কার ডেস্ক : ইপিএফও-র মাধ্যমে অধিক সংখ্যক শ্রমিককে সংগঠিত সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। এই লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শ্রম এবং কর্মসংস্থান মন্ত্রক ‘কর্মচারী নথিভুক্তিকরণ অভিযান ২০২৫’ প্রকল্পের ঘোষণা করেছে। এই যোজনা ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ৩০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। এর আগে ২০০৯ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত বাদ পড়া যোগ্য কর্মচারীদের নথিভুক্তিকরণের জন্য ২০১৭-য় এই পদক্ষেপ করেছিল কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক।
এই অভিযানের উদ্দেশ্য, ১৯৫২-এর অন্তর্গত কর্মচারী ভবিষ্য নিধি এবং বিবিধ সংশোধনী অধিনিয়মকে কর্মচারীদের মধ্যে পরিচিত করা যাতে আগে থেকে নথিভুক্ত এবং নতুন নিয়োগকারী, দুই পক্ষকেই স্বেচ্ছায় যোগ্য কর্মচারীর হিসেবে ঘোষণা করা যায়। নিয়োগকারী সকল কর্মরত কর্মচারীদের এই প্রকল্পে নথিভুক্ত করতে পারে। যাঁরা পয়লা জুলাই ২০১৭ থেকে ৩১ অক্টোবর ২০২৫-এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন এবং যাঁরা ঘোষণার এই তারিখ পর্যন্ত জীবিত এবং কর্মরত অথচ যে কোনও কারণেই হোক প্রথম ইপিএফ যোজনায় নথিভুক্ত হননি তাঁদের উৎসাহিত করতে চায় কেন্দ্র।
কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক জানিয়েছে, পয়লা জুলাই ২০১৭ থেকে ৩১ অক্টোবর ২০২৫, এই সময়ের জন্য ভবিষ্য নিধি অংশগ্রহণে কর্মচারীর অংশ মকুব করে দেওয়া হবে যদি তা না কর্মচারীর বেতন থেকে কাটা না হয়ে থাকে। নিয়োগকারীকে শুধুমাত্র ওই সময়ের জন্য নিজের অংশটুকু দিতে হবে। এই যোজনার সুবিধাপ্রাপক নিয়োগকারীদের এককালীন ১০০ টাকার নামমাত্র জরিমানা দিতে হবে যা আইন লঙ্ঘনের জন্য দেয় জরিমানার থেকে অনেক কম।
সকল প্রতিষ্ঠান এই প্রস্তাবিত যোজনায় অংশ নেওয়ার যোগ্য বলে জানানো হয়েছে। এমনকি যারা অধিনিয়মের ৭এ ধারা মোতাবেক বা যোজনার ২৬ বি অনুযায়ী অথবা কর্মচারী পেনশন যোজনা ১৯৯৫-এর প্যারাগ্রাফ ৮ অনুযায়ী তদন্তের মুখোমুখি তারাও এই সুবিধা নিতে পারবে। ইইসি-র সুবিধাপ্রাপক নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধ ইপিএফও দ্বারা কোনও স্বতঃপ্রণোদিত মামলা শুরু করা হবে না। যারা ইইসি ২০২৫ অনুযায়ী নথিভুক্ত অথবা ইইসি ২০২৫ অনুযায়ী অতিরিক্ত কর্মচারীর ঘোষণা করেছেন তারা প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনার সুবিধা লাভ করার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন, তবে, যোজনা অনুযায়ী কিছু নিয়ম এবং কিছু শর্ত মেনে চলতে হবে।
নিয়োগকারীদের ইপিএফও দ্বারা উপলব্ধ অনলাইন সুবিধার মাধ্যমে ঘোষণা করতে হবে, যেখানে নিয়োগকারী নথিভুক্ত কর্মচারীদের বিবরণ দেবেন এবং এটিকে ইলেকট্রনিক চালান-সহ রিটার্ন-এর সঙ্গে জুড়ে দেবেন, যার মাধ্যমে নিজস্ব ভাগ এবং ১০০ টাকার এককালীন জরিমানা দেওয়া হয়েছে। সরকার মনে করে, এই অভিযান কর্মচারীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কভারেজ-এর লক্ষ্যে নথিভুক্তিকরণ বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে এটি নিয়োগকারীদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ একারণে যে তারা আগের আইনি ঝঞ্ঝাট খুব সহজে মিটিয়ে নিতে পারবে যা ভবিষ্যতে তাদের ব্যবসার পক্ষে সুবিধাজনক হয়ে উঠবে।
