ওঙ্কার ডেস্ক: গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে আমেরিকার সাম্প্রতিক অবস্থান এবং রাজনৈতিক বক্তব্য ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ইউরোপের উত্তর প্রান্তে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই এক অভিনব প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছে লাল রঙের ক্যাপ, যার গায়ে লেখা রয়েছে ‘মেক আমেরিকা গো অ্যাওয়ে’। এক সময়ে আমেরিকার রাজনীতির পরিচিত স্লোগান থেকে অনুপ্রাণিত এই ক্যাপই এখন গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কে আমেরিকাবিরোধী প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠেছে।
ডেনমার্কের কোপেনহেগেনের একটি পোশাকের দোকানে প্রথম তৈরি হয় এই লাল ক্যাপ। শুরুতে সেভাবে বিক্রি না হলেও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমেরিকার আগ্রহ ও প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিত প্রকাশ্যে আসতেই হঠাৎ করেই চাহিদা বেড়ে যায়। দোকানের তাক থেকে দ্রুত উধাও হতে থাকে ক্যাপগুলি। প্রতিবাদকারীদের মতে, এই ক্যাপ শুধুমাত্র একটি পোশাক নয়, বরং গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক।
গ্রিনল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই ডেনমার্কের স্বশাসিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকার তরফে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব ও খনিজ সম্পদ নিয়ে মন্তব্য ঘিরে অসন্তোষ বাড়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে। বহু মানুষ এই মন্তব্যকে সরাসরি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। সেই ক্ষোভই রাস্তায় নেমে আসছে মিছিল, সমাবেশ এবং প্রতীকি প্রতিবাদের মাধ্যমে। কোপেনহেগেন ও গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক—উভয় জায়গাতেই বড় আকারের জমায়েতে চোখে পড়ছে এই লাল ক্যাপ।
প্রতিবাদকারীরা বলছেন, গ্রিনল্যান্ড কোনও দেশের সম্পত্তি নয় এবং এখানকার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে সেখানকার মানুষই। ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রি নয়’। এই বার্তা বারবার উঠে আসছে স্লোগানে, প্ল্যাকার্ডে এবং সামাজিক মাধ্যমে। সেই সঙ্গে ‘মেক আমেরিকা গো অ্যাওয়ে’ লেখা ক্যাপ দ্রুতই প্রতিবাদের এক দৃশ্যমান চিহ্নে পরিণত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর কেড়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র ফ্যাশন বা প্রতীকি প্রতিবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছে যে বাইরের চাপ বা প্রভাব তারা মেনে নিতে রাজি নয়। এক টুকরো লাল ক্যাপ তাই এখন বৃহত্তর কূটনৈতিক টানাপড়েনের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে, যা গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
