ওঙ্কার ডেস্ক: গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন হারে জিএসটি কার্যকর হয়েছে সারা দেশে। বহু পণ্যের দাম কমেছে নয়া জিএসটি কার্যকর হওয়ার পর। দেশজুড়ে নতুন হারে গুডস অ্যান্ড সার্ভিস ট্যাক্স লাগু হওয়ায় ক্ষুদ্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন এবং কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন। মোদী সরকারের এই পদক্ষেপে বাংলার হস্তশিল্প থেকে শুরু করে পোশাক শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরাও লাভবান হচ্ছেন।
কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রের দাবি, জিএসটি সংস্কার বাংলাকে কারুশিল্প ও উদ্যোগের কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। এই পরিবর্তনের ফলে বাংলার কারুশিল্পী, কৃষক এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সরাসরি ক্ষমতাবৃদ্ধি হবে, যার ফলে তাদের পণ্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় বাজারেই আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। এটি বাংলার জেলা জুড়ে স্থানীয় অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করবে।
নকশি কাঁথা বাংলার অন্যতম প্রসিদ্ধ সূচিকর্মের ঐতিহ্য, যা বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদীয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচলিত। ১২% থেকে কমে জিএসটি ৫% হওয়ার ফলে দাম প্রায় ৬.২৫% কমে যাওয়ায় এই ক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িতরা সরাসরি উপকৃত হবে। অন্য দিকে, পাট শিল্পের বার্ষিক লেনদেন ১০,০০০ কোটি টাকারও বেশি, যার প্রায় ৭০% উৎপাদন হল চটের বস্তা, যা খাদ্যশস্য প্যাকেজিংয়ের জন্য সরকার সংগ্রহ করে থাকে। এছাড়াও, ফ্যাশন ব্যাগ এবং সাজসজ্জার সামগ্রীর মতো বৈচিত্র্যপূর্ণ পাটজাত পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। জিএসটি ১২% থেকে কমিয়ে ৫% করার ফলে খুচরো মূল্য প্রায় ৬.২৫% কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হোসিয়ারি এবং রেডিমেড পোশাক পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম শিল্পগুলির মধ্যে অন্যতম, যেখানে আনুমানিক পাঁচ লক্ষ শ্রমিক নিযুক্ত। কলকাতা ভারতের হোসিয়ারি শিল্পের ঐতিহাসিক জন্মস্থান, যার প্রধান স্থানগুলি হল-মেটিয়াবুরুজ, বারুইপুর এবং শিলিগুড়ি। জিএসটি সংস্কারের ফলে এই ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত মানুষজনও উপকৃত হবে।
এ ছাড়াও দার্জিলিং চা, মালদার আম প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, বাঁকুড়া পাঁচমুড়া টেরাকোটা শিল্প, মাদুর শিল্প, পুরুলিয়ার ছৌ মুখোশ, দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডির কাঠের মুখোশ, বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, নদীয়া, হুগলি, মালদা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার শোলা শিল্পকলা, শান্তিনিকেতনের চর্মশিল্পের সঙ্গে কারিগররা উপকৃত হবেন।
