ওঙ্কার ডেস্ক: নিজের স্ত্রীকে পছন্দ করত না স্বামী। মুক্তি পেতে চেয়েছিল স্ত্রীর থেকে। স্ত্রীর সঙ্গে আইনিভাবে পৃথক হওয়ার সিধান্ত না নিয়ে এক দুর্বিষহ ঘটনা ঘটাল গুজরাতের এক ব্যাক্তি। বন্ধুদের সঙ্গে মিশে নিজের স্ত্রীকে পঞ্চাশ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয় পাচারকারীদের কাছে। পরে পুলিশের কাছে স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার মামলা দায়ের করে পুরো ঘটনার সারমর্ম পালটে দেওয়ার চেষ্টা করে স্বামী। টানা ১০ দিন নির্যাতনের পর অবশেষে মহিলাকে উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গুজরাতের বনসকণ্ঠ জেলার পালানপুর এলাকায় বাস করতেন ওই দম্পতি। গত ১৯ মে স্থানীয় থানায় স্ত্রী নিখোঁজ বলে অভিযোগ দায়ের করেন স্বামী নিজেই। প্রথমে ঘটনাটিকে সাধারণ নিখোঁজ মামলা হিসেবে দেখলেও তদন্তে নেমে পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়। কারণ, অভিযোগকারীর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপরই শুরু হয় বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, দীর্ঘদিন ধরেই স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল অভিযুক্তের। অভিযোগ, স্ত্রীকে নিজের জীবনের বোঝা মনে করতে শুরু করেছিল সে। সেই কারণেই কয়েক জন বন্ধুর সঙ্গে মিলে পরিকল্পনা করে স্ত্রীকে বিক্রি করার। তদন্তকারীদের দাবি, একদিন ঘুরতে যাওয়ার নাম করে স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায় অভিযুক্ত। পরে একটি নির্জন জায়গায় আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল পাচারচক্রের সদস্যরা। সেখানেই ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে স্ত্রীকে তুলে দেওয়া হয় তাদের হাতে।
এরপর শুরু হয় ওই মহিলার জীবনের বিভীষিকা। অভিযোগ, তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং একাধিক ব্যক্তি তাঁর উপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। দিনের পর দিন আটকে রেখে গণধর্ষণ করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। কোনও ভাবে পালানোর সুযোগও দেওয়া হয়নি তাঁকে। পুলিশ জানিয়েছে, মহিলাকে ভয় দেখিয়ে এবং মারধর করে চুপ করিয়ে রাখা হয়েছিল। এদিকে তদন্তের সময় পুলিশের সন্দেহ আরও বাড়তে থাকে স্বামীর আচরণে। কড়া জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে অভিযুক্ত। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই একে একে গ্রেফতার করা হয় বাকি অভিযুক্তদের। পরে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে মহিলাকে উদ্ধার করে পুলিশ।
বর্তমানে ওই মহিলা চিকিৎসাধীন। তাঁর শারীরিক এবং মানসিক অবস্থার উপর নজর রাখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, মানব পাচার, অপহরণ, গণধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এই ঘটনার সঙ্গে আরও বড় কোনও পাচারচক্র জড়িত রয়েছে কি না।