বর্তমান আধুনিক যুগে সুন্দর ও আকর্ষণীয় লুক তৈরি করতে হেয়ার এক্সটেনশন হয়ে উঠেছে সাজসজ্জার একটি জনপ্রিয় অংশ। চুলের দৈর্ঘ্য ও ঘনত্ব বাড়ানো, পার্টি বা বিয়ের সাজে নতুন লুক তৈরি করা কিংবা প্রতিদিনের স্টাইলকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হেয়ার এক্সটেনশন ব্যবহার করা হয়। এটি বিভিন্ন রং, দৈর্ঘ্য, টেক্সচার ও পদ্ধতিতে পাওয়া যায়।
হেয়ার এক্সটেনশন লাগানোর পদ্ধতি নির্ভর করে আপনি কোন ধরনের এক্সটেনশন ব্যবহার করছেন তার ওপর। ক্লিপ-ইন এক্সটেনশন সবচেয়ে সহজ; চুলের ছোট ছোট অংশ আলাদা করে ক্লিপের সাহায্যে এক্সটেনশন লাগিয়ে সহজেই ব্যবহার ও খুলে ফেলা যায়। টেপ-ইন এক্সটেনশন চুলের গোড়ার কাছে বিশেষ টেপের সাহায্যে লাগানো হয়। এছাড়া মাইক্রো/ন্যানো রিং বা অন্যান্য সেমি-পার্মানেন্ট পদ্ধতিও রয়েছে, যেগুলো সাধারণত প্রশিক্ষিত হেয়ার প্রফেশনালের মাধ্যমে করানো ভালো।
হেয়ার এক্সটেনশন কেনার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটি আসল মানবচুল নাকি সিনথেটিক ফাইবার, তা নিশ্চিত হওয়া। আসল মানবচুল সাধারণত প্রাকৃতিকভাবে নড়াচড়া করে, দেখতে ও স্পর্শে নিজের চুলের মতো লাগে এবং উপযুক্ত যত্নে হিট স্টাইলিং করা যায়। অন্যদিকে সিনথেটিক চুল কৃত্রিম ফাইবার দিয়ে তৈরি এবং অনেক ধরনের সিনথেটিক এক্সটেনশনে অতিরিক্ত তাপ ব্যবহার করা যায় না।
তবে শুধু দেখে বা ছবিতে দেখে কোনো চুল ১০০% অরিজিনাল কি না নিশ্চিত হওয়া সবসময় সম্ভব নয়। তাই কেনার আগে বিক্রেতার কাছে 100% Human Hair, Remy Hair বা Virgin Hair সম্পর্কিত স্পষ্ট তথ্য, পণ্যের উৎস এবং রিটার্ন/অথেনটিসিটি নীতি জানতে হবে। Remy hair বলতে সাধারণত এমন মানবচুল বোঝায় যার cuticle একই দিকে সজ্জিত থাকে, ফলে চুল তুলনামূলকভাবে কম জট বাঁধে ও স্বাভাবিক দেখায়।
হেয়ার এক্সটেনশন পাওয়া যায় বিভিন্ন বিউটি সাপ্লাই শপ, হেয়ার সেলুন এবং অনলাইন হেয়ার-এক্সটেনশন বিক্রেতার কাছ থেকে। তবে শুধুমাত্র কম দাম দেখে কেনা উচিত নয়। চুলের মান, ওজন, দৈর্ঘ্য, টেক্সচার, রঙ এবং আপনার নিজের চুলের সঙ্গে মিল—সবকিছু যাচাই করে কেনা উচিত।
সঠিক মানের এক্সটেনশন এবং সঠিকভাবে লাগানোর পদ্ধতি বেছে নিলে চুলে বাড়তি ভলিউম ও দৈর্ঘ্য এনে খুব সহজেই তৈরি করা যায় আকর্ষণীয়, আধুনিক ও আত্মবিশ্বাসী একটি লুক।