ওঙ্কার ডেস্ক: দীর্ঘ দুই বছর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অবশেষে শান্তি চুক্তিতে রাজি হয়েছে ইজরায়িল প্যালেস্টাইন। ১৩ অক্টোবর শান্তি সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে বন্দীদের বিনিময় প্রক্রিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এই শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ট্রাম্প এই মুহুর্তে জেরুজালেমে উপস্থিত আছেন বলা জানা গেছে। যেখানে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ইজরায়েলি সরকার ট্রাম্পকে এই সাফল্যের পেছনে কূটনৈতিক ভূমিকার জন্য দেশের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গাজা স্ট্রিপে হামাসের হাতে আটক থাকা একাধিক বন্দিকে মুক্ত করা হয়েছে ইজরায়িলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে। প্রথম দফায় সাতজন মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিকে ইসরায়েলের একটি আইডিএফ ঘাঁটিতে নিয়ে আসা হয়েছে, যেখানে চিকিৎসক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে চলছে তাঁদের শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষা। এরপর তাঁদের পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলতে থাকা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর অবশেষে ইজরয়িল ও হামাসের মধ্যে স্থির হয়েছে যুদ্ধবিরতি। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী উভয় পক্ষই বন্দি ও যুদ্ধবন্দিদের পর্যায়ক্রমে মুক্তি দেবে। এই প্রক্রিয়ার সূচনাকেই ‘বিশেষ মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, “সবাই এখন খুশি, শান্তি ফিরে আসছে মধ্যপ্রাচ্যে।” তবে ইজরায়িলি সেনার একাংশের মতে, সমস্ত মৃত বন্দির দেহাবশেষ একসঙ্গে ফেরত দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে, কারণ বহুজনের কবরের জায়গা সম্পর্কেই নিশ্চিত তথ্য নেই।
হামাস ইজরায়লির মধ্যকার শান্তিচুক্তি অনুযায়ী, হামাস মোট ৪৮ জন বন্দিকে মুক্তি দিতে চলেছে। কিন্তু ইসরায়েলি সূত্রে জানা গিয়েছে, এদের মধ্যে মাত্র প্রায় ২০ জনের জীবিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বাকি বন্দিদের মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, যাঁদের মধ্যে ২৪ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ইজরায়িলি গোয়েন্দারা তথ্য ও ফরেনসিক রিপোর্টের সাহায্যে মৃত ও জীবিত বন্দিদের পরিচয় যাচাইয়ের কাজ চালাচ্ছে। অনেকে গাজায় অজানা স্থানে সমাধিস্থ হওয়ায় তাঁদের দেহাবশেষ ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন দেশের নাগরিকও। তানজানিয়া, থাইল্যান্ড ও নেপালের নাগরিকদের নামও রয়েছে সেই তালিকায়। এই আন্তর্জাতিক মানবিক সঙ্কট সমাধানে একাধিক দেশ ও সংস্থা কূটনৈতিকভাবে ভূমিকা নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইসরায়েলি প্রশাসনের মতে, এই বন্দিমুক্তি ও যুদ্ধবিরতি শান্তির সম্ভাবনা তৈরি করেছে মধ্যপ্রাচ্যে, যদিও আগামী দিনগুলিতে পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল থাকে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
