ওঙ্কার ডেস্ক: পরিবারের অমতে ভিন জাতের ছেলের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন ২৩ বছর বয়সী স্বপ্না। কিন্তু তা মেনে নিতে পারেনি আত্মীয় পরিজনরা। আর তাই বোনকে শাস্তি দিতে গুলি করে তাঁকে খুন করল দাদা। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে হরিয়ানার রোহতকের কাহনি গ্রামে। ইতিমধ্যে তদন্তে নেমে অভিযুক্ত এবং তাঁর তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম সঞ্জু। বুধবার রাতে রোহতকের কাহনি গ্রামে স্বপ্নার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে সঞ্জু এবং তার সাগরেদরা চড়াও হয়। স্বপ্নাকে গুলি করার পাশাপাশি তাঁর দেওর সাহিলকেও গুলি করে সে। সাহিল রোহতকের পিজিআইএমএস-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে স্বপ্না পরিবারের মত উপেক্ষা করে অটোচালক সুরজকে বিয়ে করেছিলেন। তাঁরা স্কুল থেকেই পরস্পরকে চিনতেন। এই দম্পতির একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। প্রথম দিকে তাঁরা নিজেদের জন্মস্থান কাহানি গ্রাম থেকে দূরে গিয়ে থাকছিলেন। সম্প্রতি গ্রামে ফিরে এসেছেন ওই দম্পতি। পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার রাত ৯.৪০ এর দিকে, স্বপ্নার ভাই সঞ্জু তার তিন বন্ধুকে নিয়ে স্বপ্নার বাড়িতে ঢুকে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় স্বপ্নার। গুরুতর জখম হন সুরজের ভাই সাহিল। হামলার সময় সুরজ বাড়িতে ছিল না। তাই মধ্যরাতে তাঁকে লাদোত-বোহার রোডে খুন করার পরিকল্পনা করেছিল সঞ্জু।
হরিয়ানার ডিজিপি ওপি সিং বলেন, ‘গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। লাডোট-বোহার রোডে নাকা চেকিং শুরু করা হয়। পুলিশ অভিযুক্তদের ঘিরে ফেলে। ঘেরাও করার পর অভিযুক্তরা গুলি চালাতে শুরু করে। আত্মরক্ষার জন্য তদন্তকারীরাও পাল্টা গুলি চালায়। পুলিশ এবং অপরাধীদের মধ্যে গুলি বিনিময়ের সময়, চার অভিযুক্তই গুলিবিদ্ধ হয়। চিকিৎসার জন্য তাদেরকে পিজিআইএমএস রোহতকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।’ অভিযুক্ত সঞ্জু, রাহুল – দুজনে রোহতকের কাহনি গ্রামের বাসিন্দা। অপর দুই অভিযুক্ত অঙ্কিত এবং গৌরব সোনেপত জেলার রুখি গ্রামের বাসিন্দা। ধৃতদের কাছ থেকে চারটি পিস্তল, দশটি কার্তুজ, দুটি ম্যাগাজিন এবং একটি বাইক উদ্ধার করা হয়েছে।
