বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার মুখ খুললেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে। সুইৎজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের সংসদ সদস্যদের মানবাধিকার বিষয়ক কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন তিনি। অভিযোগে নিজের এবং দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উপর চলা ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার চেয়েছেন হাসিনা।
হাসিনার দাবি, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ১৭ নভেম্বর তাঁকে যে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং অন্যায্য বিচার প্রক্রিয়ার ফসল। তাঁর অনুপস্থিতিতে গঠিত বিচারপ্যানেলের বিচারকদের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সরাসরি যোগ রয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তিনি।
এছাড়া গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে আইনি সহায়তা নিয়েও। হাসিনার বক্তব্য, আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ আইনজীবীদের ভয় দেখিয়ে সরিয়ে দেওয়ায় তিনি নিজের পছন্দের আইনজীবী নিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত আদালত যে আইনজীবী দিয়েছিল, তাঁর সঙ্গেও তাঁকে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। এমন একপেশে বিচারের পর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
অভিযোগে ২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির প্রসঙ্গও তুলেছেন হাসিনা। তাঁর দাবি, এই নিষেধাজ্ঞার জেরেই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি দেশের অন্যতম প্রাচীন দলটি। ওই নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসেও নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। এর ফলে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং নির্বাচনের বৈধতাই প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
হাসিনার মতে, এই নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক চুক্তির ১৯, ২১, ২২ এবং ২৫ ধারা অর্থাৎ মতপ্রকাশ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, সংগঠন ও রাজনৈতিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, দেশজুড়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের উপর হামলা, ১০০-র বেশি প্রাক্তন সংসদ সদস্যকে দুই বছরের বেশি সময় ধরে বিনা বিচারে আটকে রাখা এবং হামলাকারীদের দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয় এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা, গ্রেফতার ও নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়। ২০২৪ সালের জুলাই-অগস্টের আন্দোলনে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অভিযোগে হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হয়।
বলে রাখা ভালো, জেনেভার এই কমিটি বিশ্বের ১৮৩টি সংসদের সদস্যদের মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করে। এমতাবস্থায় হাসিনা কমিটির কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন – ১. আওয়ামী লীগের উপর চলা নির্যাতনের স্বাধীন তদন্ত। ২. দলের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। ৩. বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও সর্বদলীয় নির্বাচনের আয়োজন।