নিজস্ব সংবাদদাতা : অতিবৃষ্টির ফলে আরও একজনের মৃত্যুর খবর সামনে এল। এই নিয়ে সোমবার গভীর রাতে প্রবল বৃষ্টির জেরে শহরে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১০। ২৪ বছরের ওই মৃত যুবকের নাম শুভ প্রামানিক। তিনি বেহালার পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা। পরিবার সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সকালে বেহালার পূর্বপাড়া থেকে মতিলাল গুপ্ত রোডের এক বেসরকারি সংস্থায় কাজে যান শুভ। প্রবল বৃষ্টির মধ্যে অফিসে ঢুকে একটি জেনারেটর সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে বাঙ্গুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা মৃত বলে জানান।
বুধবার শুভর বাড়িতে পৌঁছন রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। শোকাহত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। ফোনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা বলেন শুভর দাদার সঙ্গে। পরিবারকে সমস্তরকম সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভর দাদা শুভঙ্কর প্রামানিক বলেন, ‘‘ফিরহাদ হাকিম পুলিশে অভিযোগ দায়েরের কথা বলেছেন। পাশাপাশি পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন।’’
মঙ্গলবার কলকাতার বৃষ্টি বিপর্যয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় জিতেন্দ্র সিংয়ের।একবালপুরের বাসিন্দা। বুধবার জিতেন্দ্র সিংয়ের বাড়িতে যান মেয়র ফিরহাদ হাকিম। জিতেন্দ্র সিংয়ের পরিবারকে তিনি পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি জিতেন্দ্র সিংয়ের দুই ছেলের পড়াশোনার দায়িত্ব নেন। তাঁদের চাকরির আশ্বাসও দেন মেয়র। এমনকী, বিপদে আপদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মতো তিনি এই পরিবারের পাশে থাকবেন বলেও জানান কলকাতার মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিম।
জিতেন্দ্র সিংয়ের পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার যখন রাস্তায় জল জমে গিয়েছিল সেই সময় নিজের ঘরের সামনে থেকে বাথরুমে যেতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় জিতেন্দ্র সিংয়ের। সিএসসি যদি পাওয়ার কাট করত তাহলে এই ঘটনা ঘটত না। এই মৃত্যূর জন্য সিইএসসির কাঁধে দায় চাপিয়েছে পরিবার।
এদিন ফিরহাদ হাকিম বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটা নির্দেশ দিয়েছেন যাঁরা পুজোর মুখে চলে গিয়েছেন। সেই পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমার দায়িত্ব। আমি ওই পরিবারকে বলেছি, ভাই হিসাবে আমি পাশে আছি। যিনি গিয়েছেন তাঁকে তো আর ফেরত আনতে পারব না। তবে তাঁর পাশে থাকতে পারি।”
