কলকাতা: আপৎকালীন পরিস্থিতিতে একটি ফোনেই পৌঁছে যাবে পুলিশ। ২৪ ঘণ্টা, সাত দিন জরুরি পরিষেবা দিতে মহালয়ার দিন রাজ্যে চালু হল ১১২ নম্বর পরিষেবা। এই উপলক্ষে পুলিশের বহরে যুক্ত করা হল ৪৫০টি নতুন গাড়ি। প্রতিটি থানার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে একটি করে গাড়ি ও একটি মোটরবাইক। পাশাপাশি ১৫০০ নতুন চালক নিয়োগ করা হয়েছে।
শনিবার এই পরিষেবার উদ্বোধন করে পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগের সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আগে ১০০ নম্বরে ফোন করলে কোনও উত্তর মিলত না। পুলিশ দফতরের দায়িত্ব নেওয়ার পর গত পাঁচ মাস ধরে আমি গোটা পুলিশ ব্যবস্থার ভিতরে ঢুকে কাজ করেছি। বারাকপুর কমিশনারেটে গিয়েছি, তারাতলায় যাঁরা মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন তাঁদের ‘জীবনরক্ষক সম্মান’ দিয়েছি। পুলিশ ও দমকলকে ধন্যবাদ জানাতে অনুষ্ঠানে গিয়েছি। রাজ্যের সব কন্ট্রোল রুম ঘুরে দেখেছি। লাইভ ট্রাফিক সিস্টেম চালুর কাজ করেছি। হিডকো ও এনকেডিএ-কে বলে ভবানী ভবনে পুলিশকর্মীদের জন্য রেনকোটের ব্যবস্থা করেছি।”
তৃণমূল আমলে পুলিশকে ‘ঢাল-তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দার’ করে রাখা হয়েছিল বলেও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, “এখন রাজ্যে প্রতি লাখে পুলিশের সংখ্যা ১৫৫। যোগীরাজ্যে সেটা ২০০। আগের সরকারের সময় আমাদের রাজ্যে ছিল লাখে মাত্র ১০৫। পর্যাপ্ত লোকবল ও পরিকাঠামো না থাকলে লড়াই করবেন কীভাবে?”
এরপরই পার্কস্ট্রিটের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে হুঁশিয়ারি দেন পুলিশমন্ত্রী। তিনি বলেন, “পার্কস্ট্রিটে পুলিশ ও সিআরপিএফের উপর পাথর ছোড়া হয়েছিল। আমি সাংবাদিকদের সামনেই বলেছিলাম, পুলিশের গায়ে হাত দিলে তার অবস্থা খারাপ হবে। আসানসোলে ফাঁড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, আমি টাকা আদায় করেছি।”
পুলিশে নিয়োগ নিয়েও বড় ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তিনি জানান, “ওবিসি জটের কারণে পুলিশ নিয়োগ আটকে ছিল। আমি বিধানসভায় ডেকে আইন সংশোধন করেছি। রাজ্য সরকারের করা মামলা থেকে বেরিয়ে এসেছি। আইনি জট কাটতেই পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান নীরজ সিং সন্ধ্যা ৭টায় নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশ করেছেন। পুজোর আগেই ১১ হাজারের বেশি নতুন কনস্টেবল নিয়োগপত্র পেতে চলেছেন।” আগামী শুক্রবার নিজের হাতে তাঁদের নিয়োগপত্র তুলে দেবেন বলেও জানান পুলিশমন্ত্রী।