ওঙ্কার ডেস্ক: ইরান ও আমেরিকার সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা ঘিরে পাকিস্তানের দুই গুরুত্বপূর্ণ শহরে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ‘লকডাউন’ ঘোষণা করা হয়নি, তবুও নিরাপত্তার অজুহাতে কার্যত শহর দু’টিকে কড়া নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে রাজধানী ইসলামাবাদ-এর গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অঞ্চলগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ‘রেড জোন’ ও ‘ব্লু এরিয়া’ সহ একাধিক স্পর্শকাতর এলাকাকে পুরোপুরি সিল করে দেওয়া হয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে, যার ফলে অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। গণপরিবহণ পরিষেবাও অনেক ক্ষেত্রে সীমিত বা বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এই কড়াকড়ির প্রভাব পড়েছে শিক্ষা ও ব্যবসা ক্ষেত্রেও। বহু স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং অনলাইনে পাঠদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বাজার ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে এসেছে মন্দা। ক্রেতার অভাবে দোকানপাট কার্যত ফাঁকা, ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। শহরে প্রবেশ ও বাহিরের পথে নিয়ন্ত্রণ থাকায় পণ্য সরবরাহেও সমস্যা দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের প্রাপ্যতার উপর।
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে পারে। সেই কারণে বিদেশি প্রতিনিধি দলগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সম্ভাব্য সফরকে সামনে রেখে গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই বৈঠক আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চললেও সরাসরি বৈঠকের বিষয়ে কোনও নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি। এই অনিশ্চয়তার মাঝেই সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে, যা নিয়ে অসন্তোষও ধীরে ধীরে বাড়ছে।