ওঙ্কার ডেস্কঃ পালাবদলের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক গ্রেফতারের ঘটনা ঘটছে। জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে বাংলার বিজেপি সরকার, তবে রাজ্য পুলিশের অতি সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একের পর এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘোরানোর মতো চরম অমানবিক অভিযোগ সামনে আসতেই পদক্ষেপ করেছে উচ্চ আদালত। রাজ্য পুলিশের অতি সক্রিয়তা ও বন্দি হেনস্থার অভিযোগে এবার রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট।
আদালতের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারকে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রস্তুত করে কলকাতা হাইকোর্টে জমা দিতে হবে। পুলিশের এই অতি-সক্রিয়তার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ ঠিক কী, তা এই রিপোর্টে উল্লেখ করতে হবে।
অন্য দিকে, এই নজিরবিহীন ঘটনার জল গড়িয়েছে মানবাধিকার কমিশন পর্যন্ত। এ দিনের শুনানিতে মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতের এজলাসে জানানো হয়েছে যে, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই তাদের তরফে একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
আইনজীবীদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে যে, বিচারাধীন বা পুলিশের হেফাজতে থাকা কোনও ব্যক্তির সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা যাবে না। বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া কাউকে হাতকড়া বা কোমরে দড়ি পরিয়ে রাস্তায় ঘোরান আইনসম্মত নয়। কিন্তু বাংলায় একের পর এক ঘটনায় পুলিশের অতি-সক্রিয়তা আসলে দেশের আইনের শাসনকেই বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে।