২০২৪-এর লোকসভা ভোটের সময় তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটের ভাড়াবাড়ি তথা রাজনৈতিক অফিসে পুলিশি তল্লাশি নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই মামলাই এবার খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের মে মাসে। লোকসভা নির্বাচনের প্রচার তখন তুঙ্গে। সেই সময় হঠাৎই কোলাঘাটে শুভেন্দুর ভাড়া নেওয়া বাড়িতে হানা দেয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশের তরফে দাবি করা হয়, এক কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে ধরতেই ওই অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু বিজেপির অভিযোগ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভোটের মুখে বিরোধী দলনেতাকে চাপে রাখতেই এই হয়রানি। অভিযোগ ওঠে, ৭০ থেকে ৮০ জন পুলিশকর্মী বাড়িটি ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালায়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, যেদিন এই অভিযান হয় সেদিন শুভেন্দু নিজে কোলাঘাটে ছিলেন না, তিনি একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলেন। পুলিশি হানার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান, পুলিশের সঙ্গে তাদের তর্কাতর্কি, বচসা বাধে। খবর পেয়ে কর্মসূচি মাঝপথে ছেড়ে কোলাঘাট থানায় চলে যান নন্দীগ্রামের তৎকালীন বিধায়ক শুভেন্দু। সেখানে গিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। শুভেন্দুর অভিযোগ ছিল, থানায় গিয়ে তিনি কোনও আধিকারিকের দেখা পাননি।
সেসময় সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে শুভেন্দু বলেছিলেন, তাঁর কাছে হাই কোর্টের রক্ষাকবচ রয়েছে, পুলিশ চাইলেই কোনও দমনমূলক পদক্ষেপ করতে পারে না। যদি সত্যিই সার্চ ওয়ারেন্ট থাকে, তবে তা তাঁর উপস্থিতিতে এবং পুরো ঘটনার ভিডিওগ্রাফি করে তল্লাশি করা উচিত ছিল, যা পুলিশ করেনি। তিনি আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেছিলেন, ‘‘ভাইপোর নির্দেশে আমার বৃদ্ধ বাবা-মাকেও হেনস্থা করা হয়েছে। মমতার সরকারের অত্যাচারের শিকার আমি। কেন আমার কোলাঘাটের ভাড়াবাড়ি, অফিসে পুলিশ গেল, তা পরিষ্কার নয়।’’ পাশাপাশি তিনি আদালতে জানিয়েছিলেন, পুলিশের ওই দলের সঙ্গে তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা ‘আই-প্যাকে’র লোকজনও ছিলেন।
এই ঘটনার বিরুদ্ধেই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শুভেন্দু। অবশেষে হাই কোর্টে জমা দেওয়া রিপোর্টে কোলাঘাট থানা নিজেই স্বীকার করে নেয় যে, সেদিনের তল্লাশি থেকে সন্দেহজনক কিছুই পাওয়া যায়নি। ফাঁকা সিজার লিস্ট তৈরি করা হয়েছিল বলেই তদন্ত আর এগোয়নি। পুলিশের এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট।