ওঙ্কার ডেস্ক: দিপাবলির পরদিন মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর জেলার গৌতমপুরা এলাকায় ফের রক্তক্ষয়ী রূপ নিল ঐতিহ্যবাহী ‘হিংগোট যুদ্ধ’ উৎসব। শতাব্দীপ্রাচীন এই উৎসবে মঙ্গলবার অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্থানীয় হাসপাতাল থেকে গুরুতরদের ইন্দোর শহরের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
প্রতিবছর দীপাবলির পরদিন গৌতমপুরা অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হয় এই বিশেষ উৎসব। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় তিনশো বছরের পুরনো ঐতিহ্য এটি। হিংগোট নামের এক প্রকার শুকনো ফলের খোলের মধ্যে গানপাউডার ভরে তা জ্বালিয়ে প্রতিপক্ষ দলের দিকে নিক্ষেপ করা হয়। একে একপ্রকার প্রতীকী যুদ্ধ হিসেবে ধরা হয়। উৎসবটি দুই দলে ভাগ হয়ে অনুষ্ঠিত হয় ‘তুরা’ ও ‘কলঙ্গি’। দুই পক্ষ একে অপরের দিকে জ্বলন্ত হিংগোট ছুড়ে লড়াই চালায়, আর দর্শকরা পাশে দাঁড়িয়ে উৎসব উপভোগ করেন।
তবে এই বিপজ্জনক রীতির কারণে প্রতিবছরই ঘটে দুর্ঘটনা। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। পুলিশের সূত্রে খবর, এবারের লড়াই চলাকালীন অসংখ্য হিংগোট জনতার মধ্যে পড়ে বহু মানুষ দগ্ধ হন। স্থানীয় প্রশাসন উৎসবের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করলেও, বিশাল জনসমাগম ও তীব্র উন্মাদনার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
ইতিহাসবিদদের মতে, মুঘল যুগে সংঘটিত এক যুদ্ধের স্মৃতিতে এই ‘হিংগোট যুদ্ধ’-এর সূচনা হয়েছিল। তবে যুগের পর যুগ পেরিয়ে এই ঐতিহ্য এখন প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েক বছর আগেও এই উৎসবে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পর উৎসবটি নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছিল, এমনকি মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টেও মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু স্থানীয়দের আবেগ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে আজও উৎসবটি বন্ধ করা যায়নি।
প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং আগামী বছর এই উৎসবের আয়োজন নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। তবে স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, এই যুদ্ধ তাঁদের সংস্কৃতির অঙ্গ, তাই হঠাৎ তা বন্ধ করা সম্ভব নয়।
