ওঙ্কার ডেস্ক: মহারাষ্ট্রে মধুচক্রের ফাঁদে পরে বেহাল অবস্থা পুলিশের বড় বড় অধিকারক সহ, স্কুল শিক্ষক, নাগরিক পরিষেবা অধিকারক, জিএসটি অধিকারক আরও অনেকে। মহারাষ্ট্রে দুজন অ্যাসিস্ট্যান্ট অব পুলিশ ঐ মহিলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। তাঁরা অভযোগ এনেছেন ঐ মহিলার হানিট্র্যাপের শিকার হয়ে ৪০ লক্ষ টাকা দিয়েছেন তাঁরা। এছাড়াও তোলাবাজী, ফাঁসানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই কেসে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এক জন মহিলা পুলিশ অধিকারককে। তদন্তে নেমে মধুচক্রে অভিযুক্ত ঐ মহিলার ফোন থেকে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে ঐ মহিলা কখনও নিজেকে বিধবা প্রাক্তন কনস্টেবল, কখনও বিপন্ন হোমগার্ড বলে বিভিন্ন ছদ্মপরিচয় নিয়ে পুলিশের উচ্চপদস্থ অফিসারদের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ তৈরি করতেন। ইমোশনাল ফাঁদে ফেলে গড়ে উঠত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, ভিডিও কল আর একান্ত সাক্ষাতের মাধ্যমে মজবুত হত সেই জাল।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, সম্পর্ক তৈরি হলেই শুরু হত ব্ল্যাকমেল। গোপনে ভিডিও রেকর্ডিং, স্ক্রিন রেকর্ডার-এ সংরক্ষিত অন্তরঙ্গ চ্যাট বা কল সবই পরবর্তী পর্যায়ে ‘প্রমাণ’ হিসেবে ব্যবহার করা হত মোটা টাকা আদায়ের জন্য। কখনও হোটেল রুমে একান্ত সাক্ষাতের নামে ডেকে গোপনে ছবি তুলে ফাঁসানো হত আইপিএস অফিসারদেরও। অভিযোগ, এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিককেও এইভাবে ব্ল্যাকমেল করা হয়েছিল। এখানেই শেষ নয় তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত ওই মহিলা এবং তাঁর স্বামী মিলে একাধিক অফিসার ও সরকারি আধিকারিককে নিশানা করতেন। অভিযোগ, ধর্ষণের মিথ্যা মামলার হুমকি দেখিয়ে এক অফিসারের স্ত্রীকেও চুপচাপ টাকা দিতে বাধ্য করা হয়েছিল, যাতে তাঁর স্বামীর সম্মান রক্ষা পায়। পুলিশ সূত্রে খবর, এই দম্পতির টার্গেট লিস্টে ছিলেন অন্তত তিনজন ডিসিপি, একাধিক এক্সাইজ অফিসার, জিএসটি আধিকারিক, স্কুলের প্রিন্সিপাল এবং নাগরিক পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকরা।
২০১৬ সালেই একবার ক্রাইম ব্রাঞ্চ অফিসারের ছদ্মবেশে প্রতারণা ও তোলাবাজির অভিযোগে থানেতে গ্রেফতার হয়েছিলেন ওই মহিলা। তারপরেও নতুন নতুন ছদ্মপরিচয় নিয়ে প্রতারণার জাল বিস্তার করে গিয়েছেন তিনি। তদন্তকারী আধিকারিকদের আশঙ্কা, এখন পর্যন্ত যে কয়েকজন ভুক্তভোগী সামনে এসেছেন, তাঁদের বাইরেও আরও বহু শীর্ষ পদস্থ ব্যক্তি এই ব্ল্যাকমেল চক্রের শিকার, তবে সামাজিক সম্মান হারানোর ভয়ে তাঁরা মুখ খুলতে পারছেন না। ফলে সামনে আসতে পারে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্ত জোরকদমে চলছে।
