ওঙ্কার ডেস্ক: আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার ভিক্টরভিল অঞ্চলের এক গ্যাস স্টেশনের পাশে হঠাৎই দেখা মিলল এক ‘ভয়ঙ্কর’ টেডি বিয়ারের। রোববার সকালে বাসস্টপের ফুটপাথে বসে থাকা ওই অদ্ভুত খেলনাটি দেখে হতবাক পথচারী ও স্থানীয় পুলিশ। কারণ, এক নজর দেখলেই মনে হচ্ছিল টেডি বিয়ারটি মানুষের চামড়া দিয়ে তৈরি! যা দেখে ভয়ে আতঁকে উঠে অনেকেই। ভয় পাবে না বা কেন, ঐ পুতুলটি চামড়ার মতো দেখতে লেদারি আবরণে মোড়া, মানুষের চোখের খোপ, নাক, ঠোঁট সবকিছুই নিখুঁতভাবে সেলাই করা। দেখে শিউরে উঠতে বাধ্য যে কেউ! তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় প্রশাসন, শুরু হয় ফরেনসিক তদন্ত।
প্রথমে আতঙ্ক ছড়ালেও পরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন সকলে। বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষায় স্পষ্ট টেডি বিয়ারটি একেবারেই মানুষের চামড়া দিয়ে তৈরি নয়। এর মধ্যে কোনও মানব টিস্যুর অস্তিত্ব নেই। সম্পূর্ণ কৃত্রিম উপাদান, ল্যাটেক্স ও রঙের নিখুঁত কারুকাজেই তৈরি হয়েছে এই বিভীষিকাময় খেলনা। তদন্তে জানা যায়, দক্ষিণ ক্যারোলিনার এক শিল্পী রবার্ট কেলি ‘ডার্ক সিডস ক্রিয়েশন’ নামে নিজের ব্র্যান্ডে এই টেডি বিয়ারটি বানিয়েছিলেন। পরে সেটি ইটসি অনলাইন শপের মাধ্যমে এক ক্রেতার কাছে পাঠানো হয়। রবার্ট কেলি নিজেই ফেসবুকে পোস্ট করে পুরো ঘটনার দায় স্বীকার করে জানান, ‘‘হ্যাঁ, ওই বিয়ারটি আমারই তৈরি। তবে ক্রেতা এটি দিয়ে কী করবেন, তা জানতাম না।’’
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেলি জানান, বাস্তবের মতো করে ল্যাটেক্স ও রঙের মাধ্যমে তাঁর পণ্যগুলো বানানো হয়। মানুষের আসল চামড়ার ছাপ নিয়ে লাইভ কাস্টিং তৈরি হয়, সেখান থেকেই টেডি বিয়ার, গিটার, এমনকি সোফাও তৈরি করেন তিনি। পুলিশ ওই টেডি বিয়ারটি সরিয়ে ফেলেছে। যদিও এই প্র্যাঙ্কের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিকে নিয়ে তদন্ত আর এগোবে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এক টেডি বিয়ার যে গোটা শহরে এমন আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করবে, তা সত্যিই অচিন্তনীয়!
