নিজস্ব সংবাদদাতা: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধের কিং খালিদ বিমানবন্দর ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কবলে পড়ে শনিবার। সেই হামলায় গুরুতর জখম হন হায়দরাবাদের বাসিন্দা মহম্মদ ইউসুফ আলি।সূত্রের খবর, আজ, রবিবার তাঁর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাঁর দুই পুত্র।
এই বিষয়ে এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি জানিয়েছেন, ইউসুফ আলি মদিনায় উমরাহ করতে যাচ্ছিলেন, তখনই হামলার মুখে পড়েন। তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরাও আহত হয়েছেন।
ওয়াইসি সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, “বিমানবন্দরের হামলায় ইউসুফ আলির মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। তাঁর এক ছেলের হাঁটুর অস্ত্রোপচার চলছে, আর এক ছেলের পায়ের তিনটি আঙুল কেটে বাদ দিতে হয়েছে। মেয়ে ও স্ত্রী নিরাপদে আছেন। তাঁদের সঙ্গে থাকা এক আত্মীয়ার মাথায় আঘাত লেগেছে, তবে তিনি বিপদমুক্ত। আমি রিয়াধে থাকা ইউসুফের শ্যালকের সঙ্গে যোগাযোগে আছি।” জানা গিয়েছে, পরিবারটি তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদের বাসিন্দা।
রিয়াধে ভারতীয় দূতাবাস মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং দেহ দ্রুত দেশে ফেরানোর সব ব্যবস্থা করা হবে। দূতাবাসের তরফে সমাজমাধ্যমে এক্সে জানান হয়েছে, “১০ অক্টোবরের হামলায় আহত এক ভারতীয় নাগরিকের আজ মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা।”
শনিবারের হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে কিং খালিদ বিমানবন্দরের ৩ ও ৪ নম্বর টার্মিনাল কমপ্লেক্সে, যেখানে মূলত অন্তর্দেশীয় উড়ান চলাচল করে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এই হামলার জন্য ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে। সৌদির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে চার জন সৌদি নাগরিক, দু’জন বাংলাদেশি, একজন ফিলিস্তিনি, একজন মার্কিন নাগরিক, একজন মিশরীয়, একজন জর্ডনীয়, একজন সিরীয় এবং একজন সুদানের বাসিন্দা রয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
অন্যদিকে শনিবারই এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়, “গত কয়েক দিন ধরে রিয়াধের কিং খালিদ বিমানবন্দরে বারবার হামলা, বিশেষ করে ১০ অক্টোবরের কাপুরুষোচিত হামলা, যাতে প্রাণহানি, আহত ও সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা করছি। অসামরিক নাগরিক ও পরিকাঠামোর উপর এই ধরনের হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর উপসাগরীয় দেশগুলিতে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা বলে মনে করা হচ্ছে।