ওঙ্কার ডেস্ক: মুম্বই পুরসভা নির্বাচনের আগে ভাষা ও আঞ্চলিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত মহারাষ্ট্রের রাজনীতি। এক জনসভা থেকে মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার প্রধান রাজ ঠাকরে উত্তরপ্রদেশ ও বিহার থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলা হয়, মহারাষ্ট্রে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার কোনও চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। এই ধরনের উদ্যোগ হলে তার কঠোর প্রতিক্রিয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
রাজ ঠাকরের বক্তব্যে উঠে আসে ‘মারাঠি মানুস’-এর অধিকার রক্ষার প্রশ্ন। তিনি বলেন, মহারাষ্ট্রে বসবাস করতে হলে মারাঠি ভাষা ও সংস্কৃতিকে সম্মান জানাতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, হিন্দি ভাষার বিরোধিতা নয়, বরং ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার মানসিকতার বিরুদ্ধেই তাঁর অবস্থান। রাজের কথায়, মহারাষ্ট্রে মারাঠির মর্যাদা খর্ব করার যে কোনও চেষ্টা রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট ডেকে আনবে।
নির্বাচনের আগে মারাঠি আবেগকে সামনে রেখে রাজ ঠাকরে ও উদ্ধব ঠাকরের ঘনিষ্ঠতা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একই মঞ্চে দুই ঠাকরের উপস্থিতি এবং ভাষা-পরিচয়কে কেন্দ্র করে এমন তীব্র বক্তব্য ভোটের অঙ্কে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মুম্বইয়ের মতো বহুভাষিক ও বহুজাতিক শহরে এই ধরনের বক্তব্য নতুন করে ভাষাগত বিভাজনকে সামনে আনছে। একদিকে পরিযায়ী শ্রমিকদের বড় অংশ শহরের অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, অন্যদিকে স্থানীয় ভোটব্যাঙ্ককে চাঙা করতে ভাষা ও পরিচয়ের প্রশ্নকে হাতিয়ার করছে রাজনৈতিক দলগুলি। রাজ ঠাকরের বক্তব্য সেই পুরনো আঞ্চলিকতাবাদী রাজনীতিকেই আবার নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এনে দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে রাজ ঠাকরের মন্তব্য নিয়ে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। নির্বাচনের আগে ভাষা ও পরিচয়ের প্রশ্ন কতটা প্রাধান্য পায়, সেটাই এখন দেখার।
