
স্পোর্টস ডেস্ক : বুধবার এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের তৃতীয় রাউন্ডের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করতে কার্যত বাধ্য হয় ভারত। ম্যাচের শুরু থেকেই ভারতের পারফরম্যান্স আশানুরূপ ছিল না। প্রথমার্ধে দুই দলের কেউই তেমন কোনও আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি বা ধারাবাহিক ভাবে চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি। বিরতির পর খেলায় তীব্রতা ও আক্রমণের গতি বাড়ালেও ভারতের খেলোয়াড়রা বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করে এবং বাংলাদেশের দুর্ভেদ্য রক্ষণ তাদের বারবার হতাশ করে।
ম্যাচের পর সাংবাদিক সম্মেলনে কোচ মানোলো মার্কেজ তার হতাশা লুকিয়ে রাখেননি। বলেন “কিছু বলার নেই। আমরা ভাগ্যবান যে প্রথমার্ধে একটিও গোল খাইনি। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা উন্নতি হয়েছিল, তবে তখনও খুব খারাপ খেলেছি। সত্যি বলতে, এটি আমার ফুটবল জীবনের সবচেয়ে কঠিন সাংবাদিক সম্মেলন। কারণ, আমি এখন যা ভাবছি সব বলতে চাই না। আমরা খুবই বাজে খেলেছি, এটুকুই বলব।”
মার্কেজ শুধুমাত্র গোল করতে না পারায় ক্ষুব্ধ নন, বরং তিনি দলের প্রস্তুতি ও মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বলেন, “আমি জানি, ম্যাচটা শুরু হয়েছিল একটা ব্যাক পাস দিয়ে। গোলকিপার বলটা একজন খেলোয়াড়ের উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছিল, কিন্তু স্ট্রাইকার গোলকিপারকে অতিক্রম করেও বল বাইরে মারে। এটা অভিজ্ঞতার বিষয় নয়, বরং খেলার মধ্যে ঢোকার পদ্ধতির ব্যাপার। আজ শুধু গোলকিপার নয়, প্রায় প্রত্যেক খেলোয়াড় একই ভাবে খেলেছে।”
হতাশাজনক ফলাফলের পরও মার্কেজ স্বীকার করেন যে অন্তত এক পয়েন্ট পাওয়া কিছুটা হলেও স্বস্তির ব্যাপার হতে পারে। এই নিয়ে তিনি বলেন, “খুব বাজে ম্যাচ হয়েছে। কিন্তু আমরা অন্তত এক পয়েন্ট পেয়েছি, হয়তো এটাই সবচেয়ে ভাল দিক। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না।”
দলের চোট সমস্যা কোনও অজুহাত হতে পারে না বলে মনে করেন মার্কেজ। বলেন, “অজুহাত দেওয়া সহজ, কারণ অনেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় দলে নেই—তারা সবার চোট। কিন্তু আমরা এই অজুহাত দিতে পারি না। কারণ, এটাই বাস্তব। দ্বিতীয়ত, আমাদের সব সময় উন্নতি করতে হবে। ভাল ফুটবল খেললেও আমাদের রক্ষণ, আক্রমণ, ট্রানজিশন, এবং সার্বিক খেলার মান উন্নত করতে হবে। আজ আমাদের দিন ছিল না। তবে সামনে আমাদের নতুন সুযোগ আসবে এবং আমরা দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে নতুনভাবে শুরু করব।